বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদকে ফিরে পেতে নতুন উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ


সন্ধান২৪.কমঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এম এ রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠানোর ইস্যুটি সোচ্চার হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশে এ বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সুত্র থেকে জানা যায়,এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে নানা রকম বৈঠক ও আইনগত ব্যাপারটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনি রাশেদকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর ব্যাপারে আমেরিকার বেশ কয়েকজন আইন প্রণেতা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ও রাদেশ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠানোর উপায় খুঁজে দেখছে।ু
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমকে ডেকে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরে আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরত্বে সাথে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ পেয়েই পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দৌড়-ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। কাগজ-পত্র,ফাইল ঠিক করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন,পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একজন উপ-সচিব।
বাংলাদেশ থেকে দফায় দফায় আমেরিকায় ছুটে আসছেন মন্ত্রী,আমলাসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রসাশন। চলতি বছরে এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েটি গুরত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকগুলো থেকে খুনি রাশেদকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে,পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুত্র থেকে জানা যায়।
এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এ এম রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত দেবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন,রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়াগুলো খুব দ্রুত শেষ করা হচ্ছে।
গত ২১ আগষ্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসূচির ওপর মিডিয়া ব্রিফিংকালে এমন আশার কথা ব্যক্ত করেন ড. মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনব। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ফেরত দেয়। এবারও সেই প্রক্রিয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনব।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠানোর ইস্যুতে বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইন প্রণেতারা। তারা জানিয়েছেন,বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগের হাউস কমিটিতে রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এম এ রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরৎ আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে তা জানতে চান। এর জবাবে গত ১০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠক এই তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-সিনেটর টেড ক্রুজ (রিপাবলিকান টেক্সাস) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বিশদ তথ্যাদি সরবরাহ করার অনুরোধ করেন। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয়, মধ্য এশিয়া এবং নন-প্রলিফারেশন বিষয়ক ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাব-কমিটির র‌্যাঙ্কিং সদস্য কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট (রিপাবলিকান-ওহাইও) জানান যে,তিনি বিচার বিভাগের হাউস কমিটিরও সদস্য। এ কমিটিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করবেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,দক্ষিণ-মধ্য এশিয়া বিষয়ক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যাম্বাসেডর ডোনাল্ড লু বলেছেন যে,তিনি এই বিষয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন।
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ক্লিনকেনের ৪ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সংলাপে এ বিষয়টি উঠে আসে।
চলতি মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সফর করেন। সেখানেও সংসদীয় প্রতিনিধিদল সিনেটর টেড ক্রুজ (রিপাবলিকান-টেক্সাস),কংগ্রেসম্যান স্টিভশ্যাবট (রিপাবলিকান-ওহাইও) এবং কংগ্রেসম্যান ডোয়াইটইভান্স (ডেমোক্র্যুাট-পেনসিলভানিয়া) এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা ওই বৈঠকেই ঘৃণিত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আলোচনা করেছেন।

Exit mobile version