সন্ধান২৪,কম : বাংলাদেশের কুষ্টিয়া শহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ -সমাবেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইর্য়ক শহর । মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন এই সমাবেশগুলোতে অংশ গ্রহন করে।
জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজাতেে ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সচেতন বাঙালি নাগরিক সমাজ। সমাবেশ থেকে মূল অপরাধীদের গ্রেফতারসহ ৩ দফা দাবি জানানো হয় ।
সমাবেশের সমন্বয়ক সাংবাদিক ও নাট্যকার তোফাজ্জল লিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য করেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ডক্টর আব্দুল বাতেন,মানবাধিকার কর্মী ও ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মুজাহিদ আনসারী,বাংলাদেশ গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি,চলচ্চিত্র নির্মাতা রওশন আরা নীপা,সাপ্তাহিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জীবন কুমার,সাংবাদিক আবদুল হামিদ, মনীষা দত্ত তৃষা ও সাংস্কৃতিক কর্মী স্বাধীন মজুমদার ।

সমাবেশের পক্ষে সরকারের কাছে দাবি জানান, ( ১) ৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে, ( ২) বিজ্ঞানভত্তিক একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে ও ( ৩) ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ও ধর্মীয় উস্কানিদাতাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সমাবেশে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ডক্টর আব্দুল বাতেন বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চায় না তারা সাম্প্রদায়িক কোন রাষ্ট্রে চলে যাক।
মানবাধিকার কর্মী ও ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মুজাহিদ আনসারী বলেন, আড়াইশো বছর আগে বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল পলাশীর প্রান্তরে। বহু আরাধনার পর বঙ্গবন্ধুর মতো এক মহামানবের জন্ম হয়েছিল বলে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। সেই বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে প্রারম্ভে তাকে অপমান করা হয় তার ভাস্কর্য ভেঙে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই আর কার অপমান দেখার অপেক্ষা করছেন আপনি। আর কার অপমান হলে আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন এই মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি বলেন, লালনের ভাস্কর্য ভাঙা, থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণ এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের মূর্তি ভাঙ্গার পর আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। সরকার নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আজ এই ধর্মীয় উগ্রবাদীরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার আস্ফালন দেখিয়েছে। কাল তারা আপনার ঘরে গিয়ে আপনার বাবার ছবি ছিড়ে ফেলবে। মায়ের বোরখা পড়া না পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এখনো যদি আপনি পথে না নেমে প্রতিবাদ করেন তাহলে বাংলাদেশের জন্য দুর্বিষহ সময় অপেক্ষা করছে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা রওশন আরা নীপা বলেন, মূর্তি হোক ভাস্কর্য হোক এর পার্থক্য অথবা বিভেদ নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র হবে অসম্প্রদায়িক। ব্যক্তিগত জীবনের যে যার ধর্ম পালন করবে। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারে না।
সাপ্তাহিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জীবন কুমার বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলা করেছে, তারা এদেশকে বিশ্বাস করে না, এদেশের সংবিধান তারা বিশ্বাস করে না। এরা পাকিস্তানের প্রেত্মাতা। এটা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর হামলা করেনি, তারা পুরো দেশের ওপর হামলা করেছে। তাই ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের এখনই না থামালে বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা মনীষা দত্ত তৃষা বলেন, এখানে পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে যাব এই প্রত্যাশা নিয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু যেখানে বাংলাদেশের স্থপতি কে অপমান করা হয় সেখানে আমার মত মানুষ দেশে ফিরে গিয়ে কত নির্বিঘ্নে জীবন যাপন করতে পারবে প্রশ্ন জাগে ।
সাংবাদিক আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের কুষ্টিয়া শহরে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের লজ্জিত করেছে। দেশব্যাপী সংস্কৃতিক আন্দোলন এবং পাড়ায়-মহল্লায় পাঠাগার স্থাপন করতে হবে। মূলত অশিক্ষার জন্যই দেশে মৌলবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
স্বাধীন মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ তার সংবিধান অনুযায়ী চলছে যারা সংবিধানের বিরোধিতা করবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
নিউইয়র্ক মহানগর আ:লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ
”আর নয় প্রতিবাদ এবার হবে প্রতিরোধ” –এই স্লোগান ধারন করে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার সিটি প্লাজায় ৬ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধা ৮টায় বাংলাদেশে কুষ্টিয়া শহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিকের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শিবলী ছাদেক এর পরিচালায় প্রতিবাদ সমাবেশে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি ডেইজি সারওয়ার।
সভায় বক্তব্যে রাখেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সাংবাদিক আবদুল হামিদ নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাসুদ হোসেন সিরাজী, এম উদ্দিন আলমগীর। সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাফুজ হায়দার, সুমন মাহমুদ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য হেলাল মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের কারা নির্যাতীত সাবেক সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বর্তমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদি গোষ্ঠীর রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানের প্রেতাত্বাদের কঠোর হাতে দমন করার জোর দাবি জানান। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং ৭২ এর সংবিধান অনুসারে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃড় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেইজি সারওয়ার বলেন,বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু তার বক্তব্যে কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুরের হুকুমদাতা ধর্ম ব্যাবসায়ী মামুনুল হক গং দের অতিসত্বর গ্রেপ্তারের জোর দাবী জানান।
সমাপনি বক্তব্যে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক বলেন,বঙ্গবন্ধুর বাংলায় সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের ঠাঁই নাই। পাকিস্তানের প্রেতাত্বাদের পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়ার দাবী জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনলাইনে ৯ সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশ
একই দিনে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় অনলাইনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয় ।প্রতিবাদে সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিউ অংশ গ্রহন করেন।
এতে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১ ইউএসএ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র, শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউ ইয়র্ক, বাংলাদেশ লিভারেশন ওয়ার ভেটারন্স এবং ৭১ ইউএসএ ইনক।
এছাড়া গত ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিউ ইয়র্কের এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাখাওয়াত বিশ্বাস, শেখ জামাল হোসেন, দরুদ মিয়া রনেল, নাফিকুর রহমান তুরান, জেড এ জয়, জাহাঙ্গির মিয়া, জাহিদ হাসান, মাহফুজুল হক হায়দার, আজিজুর রহমান খোকন, বিদ্যুৎ হোসেন, সাদেক শিবলী, আমিনুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আলামিন হোসেন, মাসুদ, আনিসুজ্জামান সবুজ, অতুল প্রসাদ।