গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় তথ্য অধিকার দিবস। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার কাটাবাড়ী এলাকার বগদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার, যেখানে বিশেষভাবে অংশ নেয় স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী।
অ্যাম্বাসি অব সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘নাগরিক’ প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সংস্থা আমরাই পারি ও অবলম্বন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দুপুরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। র্যালিটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মূল অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে শেষ হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে তথ্য অধিকার আইনের গুরুত্ব ও প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে মঞ্চে পরিবেশিত হয় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মূল মঞ্চের পাশে স্থাপন করা হয় তথ্যকেন্দ্রিক স্টল, যেখানে সাঁওতাল সংস্কৃতি, তাদের জীবনাচরণ এবং তথ্য অধিকার দিবস সম্পর্কিত নানা তথ্য তুলে ধরা হয়।
উপজেলা তথ্য অফিসার মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন, গোবিন্দগঞ্জ আইসিটি অফিসার রবিউল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এটিএম সারুয়ার আলম, উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বর্মন এবং কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কাউয়ুম শেখ।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন অবলম্বনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রতিমা চক্রবর্তী, এ.কে.এম মাহাবুব আলম মুকুল এবং উপজেলা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক গৌড় চন্দ্র পাহাড়ী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফিলিমন হেমরম, কৈলাস হাসদা, পল্লবী মুরমু, সোনালী মার্ডিসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নাগরিক কমিটির সদস্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখতেই প্রণয়ন করা হয়েছিল তথ্য অধিকার আইন। তাঁরা উল্লেখ করেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য তথ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব— আর এই লক্ষ্য অর্জনে তথ্য অধিকার আইন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
জনসাধারণের মধ্যে এই আইন সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি এবং বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে এই আইনের সুফল কাজে লাগিয়ে তাদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিবছর জাতীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয় বলে জানান বক্তারা।


