সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন ঃ
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে চমকের পর চমক, আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অশুভ চক্ররা নানা প্রতিশ্রুতি, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে এবং নিজের পকেটের অর্থ দিয়ে ভোটার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
মাত্র ২০ ডলার দিয়ে সোসাইটির সদস্য করার এই প্রক্রিয়াকে প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতা, জনবিচ্ছিন্নতা ও দেউলিয়াত্বের প্রমাণ করছে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন।
অপর দিকে, অন্যের ডলার নিয়ে যারা ভোটার হচ্ছেন, তারা মাত্র ২০ ডলারের বিনিময়ে তাদের ব্যক্তিত্ব,মেরুদন্ড ও মাথা বিক্রী করছেন বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থের কাছে ভোটাররা তাদের বিবেক ও স্বাধীনতা বন্ধক রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে একজন সচেতন নাগরিক বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে সব প্রার্থী কমিউনিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সোচ্চার থাকেন,তারাই সোসাইটির প্রার্থী হয়ে ভোটারদের অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন। টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এটি সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ। তিনি বলেছেন, ন্যায়,ইনসাফ ও সততার কথা বলে ভোট কেনার চেষ্টা চরম দ্বিচারিতার উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, কমিউনিটিতে সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলে প্রার্থীদের টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ চরম লজ্জাজনক।
অপর দিকে যারা অন্যের দেয়া মাত্র ২০ ডলারের বিনিময়ে সদস্য হচ্ছেন,তাদের নীতি-নৈতিকতা,ব্যক্তিত্ব ও সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একজন ডাক্তার। যারা অর্থের কাছে বিক্রী হচ্ছে, তিনি তাদেরকে মেরুদন্ডহীন এক নির্জিব প্রাণী বলে মনে করেন।
একজন সাংস্কৃতিক কর্মী বলেন,অন্যায় ভাবে ভোটার করা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা।
একজন সাংবাদিক বলেন, ‘অনেক মানুষ এখন অনেক সচেতন। তাদের কাছে কোন প্রার্থী বা প্যানেল ভোটার করার প্রস্তাব নিয়ে গেলে তারা ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখান করছেন। আমার বিশ্বাস এবার মিথ্যাচার কিংবা প্রলোভনে সচেতন নাগরিক পা দেবেন না।
সোসাইটির সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা, অনুদান বা উপঢৌকন দেওয়া কিংবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
এবারের নির্বাচনে ২০ হাজারের বেশী ভোটার করার পরিকল্পনা নিয়ে দুটি প্যানেল মাঠে নামছে বলে একটি সুত্র থেকে জানা যায়।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সোসাইটির বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।
অপর দিকে বর্তমান কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া,কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি ও কার্যনিবাহী সদস্য এম এ সিদ্দিককে নিয়ে সাত সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদে সভাপতি পদে সোসাইটি ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সন্দীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে প্রচারে আছে।
আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হওয়ার সম্ভবনা আছে। আগামী ৩০ জুন ভোটার হওয়ার শেষ তারিখ । এ উপলক্ষে সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
