সন্ধান২৪.কম : বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রার্থীদের সাংগঠনিক যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে সোসাইটির ভোটাররা ।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিকভাবে গ্রহনযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে ! সোসাল মিডিয়ার সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য!
চায়ের দোকান, বাজার, বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় কিংবা আড্ডায় প্রার্থীরা হয়ে উঠেছে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়।
কমিউনিটির জন্য প্রার্থীরা কী ভূমিকা পালান করছে ,তা নিয়ে চলছে নানা তর্ক।
এই আলোচনা দুটি প্যানেলকে সমর্থন বা বিরোধিতার বিষয় নয়। এটি মূলত প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে একটি নীতিগত প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে সন্ধান২৪.কম থেকে ভোটারদের মাঝে এক জরিপ চালানো হয়। জরিপে দেখা যায়, প্রায় সবাই বলছে, সোসাইটির নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার প্রধান যোগ্যতা হচ্ছে,বিশ ডলার দিয়ে কে কত ভোটার কিনতে পেরেছে। সেই সাথে প্যানেলে কে কত বেশী ডলার ঢালতে পেরেছে।
সন্ধানের জরিপ বলছে, অশিক্ষিত ব্যক্তি শিক্ষিতের ছদ্মবেশে সোসাইটিতে এসে লুটে পুটে খেয়ে নেবে । সেই সাথে “সমাজসেবক”হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাও সুযোগ পাবে। এই জন্য পকেটের পয়সা বিনিয়োগ করে তারা নির্বাচনে আসে।
একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক বলেন,“শুধু যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকলেই হবে না, অর্থনৈতিকভাবে কতটা সততা থাকছে সেটিও কোটি টাকার প্রশ্ন। কারণ সোসাইটির বিরুদ্ধে প্রায়ই টাকা-পয়সা নয়ছয় করার অভিযোগ পাওয়া যায়।”
সচেতন ভোটার শফিকুল ইসলাম বলেন, যে সমাজে মাত্র ২০ ডলার দিয়ে মানুষের বিবেক ও মেরুদন্ড কিনে নেয়া যায়,সেখানে প্রার্থীদের বায়োডাটা খোঁজা হাস্যকর। কারণ প্রার্থীরা নিজের ডলার খরচ করে শত শত মানুষকে ২০ ডলার দিয়ে ভোটার করেছে। তাই সেই প্রার্থীর যোগ্যতা যাই হোক না কেন, চোখ বন্ধ করে ভোটার তাকেই ভোট দেবে।
এবারের এই নির্বাচন নিউইয়র্কের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে বিভক্ত করার ‘প্রজেক্ট’ নিয়ে নেমেছে। এক প্যানেল যদি দাবী করে বসে ‘অমুক জেলা সমিতি’ আমাদের কেনা হয়ে গেছে। তক্ষনই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেল গর্জে উঠে বলে,‘অমুক জেলার’ভোটাররা আমাদের হাতের মুঠোয়। এই ভাবে এই নির্বাচন কমিউনিটির মাঝে বিভেদ সৃস্টি করছে বলে মন্তব্য করেন একজন ভোটার।
যেহেতু নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। তাই এ বিষয়টিকে গুরত্ব দিয়ে দুটি প্যানেলকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছে ভোটাররা ।
মানুষের দৈনন্দিন জীবন, উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রার্থীদের বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে সোসাইটির নির্বাচন ।এ কারণে এই নির্বাচনকে নিউইয়র্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলা হয়। তাই নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এসেছে।
ভোটাররা মনে করছে, নির্বাচনকে প্যানেল প্রভাবের প্রতিযোগিতা না বানিয়ে, জনগণের পছন্দের প্রতিযোগিতায় পরিণত করাই হতে পারে কার্যকর পথ। কারণ নির্বাচনের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু এই নয় যে জনগণ ভোট দিতে পারে; বরং এর প্রকৃত সৌন্দর্য হলো—ভোটার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সেই সিদ্ধান্তকে সবাই সম্মান করে।
আগামী ২৫ অক্টোবর নির্বাচন। সেলিম -আলী ও কুনু-ফিরোজ নামে দুটি প্যানেল এবং স্বতন্ত্রভাবে একজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে।
