সন্ধান২৪.কম : বাংলাদেশ সোসাইটিতে তুলকালাম কান্ডের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো। কার্যকরি কমিটির সভায় ঘুষাঘুষি, চেয়ার ও পানির বোতল নিক্ষেপের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে । এই ঘটনা নিয়ে নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার ২ জুলাই সোসাইটির কার্য নির্বাহী কমিটির সভায় এ ঘটনা ঘটে।

সভার প্রথমে সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান ও কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেনের মধ্যে ঘুষাঘুষি শুরু হয় । এক পর্যায়ে মহিউদ্দীন দেওয়ান চেয়ার নিক্ষেপ করেন । এতে আহত হন নওশেদ হোসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সর্মথকরা চড়াও হন মহিউদ্দীনের ওপর। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে চেয়ার এসে সহসভাপতি ফারুক চৌধুরীর গায়েও লাগে। ক্রিড়া সম্পাদক মইনুল উদ্দীন মাহবুব ক্ষুব্ধ মহিউদ্দীনকে জড়িয়ে ধরেও থামাতে পারছিলেন না।
সভাপতি আব্দুর রব মিয়া ও সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী প্রানপন চেষ্টা করেও সংঘর্ষে লিপ্ত কর্মকর্তাদের নিবৃত্ত করতে পারেন নি।
তবে মহিউদ্দীনের একজন সর্মথক বলেন, তাকে জড়িয়ে ধরার সুযোগে নওশেদ মহিউদ্দীনকে আঘাত করার সুযোগ পায়। বোতল নিক্ষেপে আহত হন সহ সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। ভয়ে ফারহানা চৌধুরী অন্য রুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। কর্মকর্তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একজন অপরজনকে অশ্লিল ভাষায় বলেন, কু—সোসাইটির অফিসে বাইরে এসে দেখ কি রকম খেলা হয় । মারামারি শেষে সভাপতি উভয় পক্ষকে মিলিয়ে দেন। এক পর্যায়ে মহিউদ্দীন দেওয়ান সভা ত্যাগ করে চলে যান। কার্যকরি কমিটির সভা শেষে নবগঠিত ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্যদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এরমধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত নওশেদের আঙ্গুল ফুলে কালো হয়ে যায়। তিনি ৯১১ কল করেন। ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করেছেন। এম্বুলেন্সের ভেতরে তার আঙ্গুলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সোসাইটিতে সংঘাতের ব্যাপারে সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, অপ্রীতিকর একটি ঘটনা ঘটেছে। নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। তবে আমি ও সাধারন সম্পাদক আপ্রান চেষ্টা করেছি পরিবেশ শান্ত রাখতে। শেষে মহিউদ্দীন দেওয়ান ও নওশেদকে মিলিয়ে দিয়েছি। বৈঠক শেষ হবার পর আমি , রুহুল আমিন সিদ্দিকী ও ফারুক চৌধুরী চলে আসি। পরে জানতে পেরেছি নওশেদ তার আহত হবার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছে।
এদিকে একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, ট্রাষ্টি বোর্ডের ১২ জনের মধ্যে ১১ জন ইতোমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন। একটি পোষ্টের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সুত্রপাত। কমিউিনিটির এক বড় ভাইকে ট্রাস্টিবোর্ডে রাখা ও ভোট নিয়েই নাকি এই সংঘাতের সুত্রপাত হয়েছিল।
এদিকে এই ঘটনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ছি: ছি: রব উঠেছে। এটিই এখন টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। এব্যাপারে সোসাইটির একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, সোসাইটিতে এখন আর আগের মত পরিবেশ নাই। অযোগ্য ও অদক্ষ লোক সোসাইটির কর্মকর্তা হওয়ার কারণেই নাকি সোসাইটির এই দৈন্য দশা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আর একজন সংগঠক বলেন, পয়সার মাধ্যমে যে সংগঠনের নেতা হওয়া যায়, সেই সংগঠন থেকে ভাল কিছু আশা করা যায় না।