বাইডেনের কৌশলগত অর্থনৈতিক বলয় : এখনই যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কৌশলগত অর্থনৈতিক বলয়ে এখনই যোগ দিচ্ছে না বাংলাদেশ। ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) নামের এই প্ল্যাটফরম আগামী ২৪ মে যাত্রা শুরু করবে।

যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশকে এই বলয়ে যুক্ত করতে চাইছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া বাকি সব দেশের প্রতিনিধি নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। গত ৬ মে অনুষ্ঠিত ওই গোপন বৈঠকে নতুন দেশ হিসাবে যোগ দিয়েছে ব্রুনাই। আইপিইএফে যোগ দেবে কিনা-তা এক সপ্তাহের মধ্যে জানানোর জন্য দেশগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাইডেন প্রশাসন এশিয়ায় নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বলয় গঠনের অংশ হিসাবে আইপিইএফ গঠন করছে। প্রথম পর্যায়ে নয়টি দেশ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও তিনটি দেশকে এতে যুক্ত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম পর্যায়ের নয়টি দেশ হলো-যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় পর্যায়ে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশকে বলয়ে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গত ৬ মে গোপনে ভার্চুয়ালি যে ‘সিনিয়র অফিসার্স মিটিং’ (এসওএম) করেছে; সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। বরং নতুন দেশ হিসাবে ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধি অংশ নেন।

ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মহল বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে কৌতূহলী। বাংলাদেশ নিজে থেকে বৈঠকে যোগদানে বিরত থেকেছে নাকি যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বাংলাদেশকে আলোচনার বাইরে রেখেছে এটা জানতে তাদের আগ্রহ প্রবল। জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এমন কোনো বৈঠকের কথা আমার জানা নেই।

তবে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করেনি। আমরা উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক চাই।’ তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

তবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে কী করতে চাইছে সেটাই আমরা আগে জানার চেষ্টা করছি।’ অপর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা তাড়াহুড়া করার পক্ষপাতী নই।’

সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন, এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির লক্ষ্য। তার অংশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে কোয়াড গঠন করা হয়। তার অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বলয় হলো আইপিইএফ। বাংলাদেশ সাধারণত কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোটে অংশ নেয় না। তবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো জোট করা হলে বাংলাদেশ তাতে যোগ দিতে আগ্রহী।

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির সবচেয়ে বড় দেশ ভারত আইপিইএফে যোগ দেবে কিনা সে সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। ভারত এই প্ল্যাটফরমে যোগদানে লাভ-লোকসানের হিসাব কষছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আগ্রহী বেশি। বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আইপিইএফের বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি ব্রিফিং করেছে। ঢাকা মনে করে, বাংলাদেশকে বাজার সুবিধা না দিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আইপিইএফে যোগ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা আগামী ২ জুন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ মূলত বেশি করে মার্কিন বিনিয়োগ চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাজার সুবিধা চাইছে। অপরদিকে শ্রমমানসহ অনেক ধরনের স্ট্যান্ডার্ড বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

Exit mobile version