সন্ধান২৪.কম : ভারতে মোদি সরকার কর্তৃক ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও অন্যান্য এক্টিভিস্টদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে সংহতি সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্ররা। গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সুত্র: একতা
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু বলেন, যদিও এটি আমাদের দেশের ইস্যু বলে মনে হয় না, তবু এই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ করা জরুরি, কারণ আমরা প্রত্যেকে একই নিপীড়ক বৈশ্বিক কাঠামো দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছি। বিশ্বজুড়ে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান একটা অক্ষের রূপ নিচ্ছে, স্বৈরাচারী শাসকেরা একে অন্যের সহযোগী ভূমিকা নিচ্ছে। আমাদের সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল আমরা এই দুঃশাসনে রুখে দাঁড়াতে পারি। যেমন করে ভারতীয় এক্টিভিস্টরা, বিশেষ করে অরুন্ধতী রায়, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মঞ্জুর মঈন বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দেশেই একই ফ্যাসিস্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে তারুণ্যের কণ্ঠকে কোথাও কখনো দমন করা যায় না।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম তার বক্তৃতায় বলেন, জেএনইউ এবং ভারতের সর্বত্র, ছাত্র কর্মীরা মোদি শাসনের অহংকারকে ধুলিস্মাৎ করে দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদির ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তারা প্রবল সাহস দেখিয়েছে। এই সময়, আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে যুক্ত হবার।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেছেন, দিল্লির দাঙ্গায় যারা সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে সেই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি, অথচ উমর খালিদদের মতো এক্টিভিস্ট, যারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়েছেন তাদের মিথ্যা মামলায় আটক করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো দমনমূলক আইন দিয়েও একই ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহাথির হক বলেন, আমরা মুক্তির কণ্ঠকে শক্তিশালী করতে চাই। কোনো ক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রের থেকে কোনরকম নিরাপত্তা পাই না। আমরা আমাদের অধিকার চাই, সেজন্য এই প্রতিবাদ মোটেই অপ্রাসঙ্গিক নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র সাদিক মাহবুব ইসলাম বলেন, উমর খালিদ এবং আমাদের সংগ্রাম এক ও অভিন্ন। ফ্যাসিবাদের চেহারা সর্বত্র একইরকম, এজন্য এই প্রত্যেকটি অবিচারমূলক গ্রেফতারের প্রতিবাদ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মিম আরাফাত মানব বলেন, অনেকে এটা মনে করতে পারেন যে এই প্রতিবাদ অপ্রাসঙ্গিক, কিন্তু যদি আপনি ধারণা করেন যে আপনার রাজনীতি রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহলে আপনি ভুল। নিপীড়নের প্যাটার্ন ভারত বাংলাদেশ সব দেশে একই।
গত কয়েকমাসে দিল্লি পুলিশ অসংখ্য এক্টিভিস্টকে আটক করেছে, যারা সিএএ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এদের বেশিরভাগকে আটক করা হয়েছে বিতর্কিত Unlawful Activities (Prevention) Act এর মাধ্যমে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মীরান হায়দার, শারজিল ইমাম, সফুরা যার্গারসহ আরো অনেকে। নারীবাদী আন্দোলন ”পিঞ্জরা তোড়” এর নেতা দেভাঙ্গনা কালিতা ও নাতাশা নারওয়াল ও আটক হয়েছেন। উমর খালিদ একই ধরনের অভিযোগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন।


