সন্ধান২৪.কম ঃ ইউরোপ ও আমেরিকায় কয়েক মাস পর আবার করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিলের পর আজ একদিনে রেকর্ড করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ইউরোপজুড়ে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় সেখানে সপ্তাহে সপ্তাহে সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার ৯৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংবাদসূত্র : বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সংক্রমণের এই হার মূলত দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এবং পশ্চিম ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা এবং টেক্সাসে। এই রাজ্যগুলোই বৃহস্পতিবার একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা জানিয়েছে। ভাইরাস ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে এ পরিসখ্যান।
এদিকে, ইউরোপে আর্মেনিয়া, সুইডেন, মালদোভা এবং নর্থ মেসিডোনিয়াসহ ১১টি দেশে দ্রম্নত করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে ‘খুবই গুরুতরভাবে ভাইরাসটি’ ফিরে আসছে বলে জানিয়েছেন ডবিস্নউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হ্যান্স হেনরি ক্লুজ। তার কথায়, ভাইরাসের পুনরুত্থানের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি যে সতর্কবার্তা দিয়ে এসেছেন, তাই এখন ইউরোপের কয়েকটি দেশে বাস্তব রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে যেতে পারে বলে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করেছেন তিনি।
ক্লুজ বলেন, গত দুই সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমণ বেড়েছে ৩০টি দেশে। এরই মধ্যে ১১টি দেশে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে দ্রম্নতহারে। এই ১১টি দেশ হচ্ছে- আর্মেনিয়া, সুইডেন, মালদোভা, নর্থ মেসিডোনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, আলবেনিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভেনিয়া, কিরগিজস্তান, ইউক্রেন এবং কসোভো।
ইউরোপে এখনো দৈনিক প্রায় ২০ হাজার মানুষের ভাইরাস সংক্রমণ ঘটছে এবং সাত শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছে বলেও ক্লুজ সতর্ক করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে দেশগুলোতে ব্যাপক আকারে কয়েকটি গুচ্ছ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে আছে জার্মানির নর্থরাইন ভেস্টফেলিয়া রাজ্যের একটি শহরের মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা থেকে ১৫ শতাধিক কর্মীর ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা থেকেও গত সপ্তাহে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ফ্রান্সেও ঘটেছে একই ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রেও ২৯টি রাজ্যে ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ‘ওয়াল্ডোমিটার’র ভাইরাস সংক্রমণের পরিসংখ্যান বলছে, করোনার প্রকোপ যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি। কেবল ভাইরাস পরীক্ষাতেই রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছে তাই নয়, হাসপাতালগুলোতেও উলেস্নখযোগ্যহারে বাড়ছে রোগীর ভিড়।
ইউরোপে সম্প্রতি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ার পরই পোল্যান্ড, জার্মানি, স্পেনের মতো দেশগুলো খুব দ্রম্নতই আবার বিধিনিষেধ আরোপ করে তা ঠেকানোর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডবিস্নউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হ্যান্স হেনরি ক্লুজ। দেশগুলোর এ পদক্ষেপ আশাব্যাঞ্জক উলেস্নখ করে তিনি আগামীতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।
ক্লুজ বলেন, ডবিস্নউএইচওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মের সময়টিতে বেশিরভাগ দেশেই পরিস্থিতি আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বসন্তের সময়টির জন্য প্রস্তুতি রাখতে হবে। কারণ তখন ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে মিশে যাবে কোভিড-১৯। সমাজে এখনো ভাইরাসটির সক্রিয় উপস্থিতি আছে এবং এর কোনো কার্যকর চিকিৎসা কিংবা টিকা এখনো নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা ১০ গুণ বেশি
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা শনাক্তের চেয়ে ‘১০ গুণ বেশি’ হতে পারে। ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল’র (সিডিসি) অনুমান, কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা হয়ত এরই মধ্যে দুই কোটি ছাড়িয়ে গেছে। টেক্সাসে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধির পর অর্থনীতি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ বন্ধ করার পর একথা জানাল সিডিসি।
সম্প্রতি দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। ‘ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন’ আশঙ্কা করছে, অক্টোবরের দিকে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু ৯৫ শতাংশ মার্কিনি যদি মাস্ক পরে, তাহলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে এক লাখ ৪৬ হাজার।


