সন্ধান২৪.কম : পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে ভারত বলে. কারগিল যুদ্ধের পর এত বেশি সময় ধরে গুলি চলেনি । গুলি, মর্টারের পাশাপাশি দূরপাল্লার কামানও ব্যবহার করা হয়।
বুধবার রাত থেকেই চিরশত্রু দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই গোলাগুলি চলার সময় তিন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। এ সময় সীমান্তে দুই দেশের লড়াই চরমে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কারগিল যুদ্ধের পর এত বেশি সময় ধরে কামান বা আর্টিলারি ‘ফায়ার’ দুই দেশের সীমান্তে আর কখনো হয়নি।


ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযোগ, বুধবার রাত থেকেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান প্রথম ‘লাইন অফ কন্ট্রোলে’ (এলওসি) গুলি চালাতে শুরু করে। ছোড়া হয় মর্টার। ভারতও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার নওগাম সেক্টরে পাক মর্টারে নিহত হয় দুই ভারতীয় সেনা। অন্যদিকে, পুঞ্চ সেক্টরে আরও এক সেনা নিহত হয়। এতে পাঁচজন ভারতীয় জওয়ান আহত হয়। এরপরই ভারত আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পাল্টা আঘাত করে পাকিস্তানও।
বৃহস্পতিবার বিকালেই ভারত জানিয়েছিল, তিন সেনার প্রাণের জবাব দেওয়া হবে পাকিস্তানকে। তারপর থেকেই গোলাগুলির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। পাকিস্তানও একইভাবে দূরপালস্নার কামান ব্যবহার করছে। তবে পাকিস্তানের দিকে এখনো কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।
পাকিস্তান অবশ্য নতুন করে তৈরি হওয়া সীমান্ত সংকট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গত এক বছরে ভারত-পাক সীমান্তে তিন হাজার বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই লঙ্ঘন হয়েছে ৪৭ বার। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগের ঘটনাগুলোর চেয়ে অনেকটাই আলাদা।
এদিকে লাদাখে চীনের সঙ্গে ভারতীয় সেনার সংঘাত চলছে। কিছুদিন আগে গালওয়ানে দুই পক্ষের হাতাহাতিতে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল। এবার পাক সীমান্তে ফের সেনা জওয়ান নিহত হলো।
বুধবার কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রম্নতি ছাড়া তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বরও সামরিক পর্যায়ের ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


