সন্ধান২৪.কম : জয়পুরহাটে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন দুর্ঘটনাকবলিত বাসের কন্ডাক্টর, অন্যরা বাসযাত্রী। দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংটির গেট খোলা ছিল এবং সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সালাম কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষের কাউকে এখনো ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
এই ঘটনায কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অপর দিকে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজা হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রেলওয়ের গঠিত কমিটিকে চার কার্যদিবস ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নিহত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দশ জনের মরদেহ জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। সেখান থেকে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতরা হলো, পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের পল্লীচিকিৎসক আলতাফ হোসেনের দুই পুত্র পশু চিকিৎসক সারোয়ার হোসেন ওরফে বাবু (৪০) ও অনার্সের ছাত্র আরিফুর রহমান ওরফে রাব্বী (২০), নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার বিজয়কান্দী গ্রামের মৃত গোরা মিয়ার পুত্র বাবুল (৫৫), আক্কেলপুর উপজেলার চকবিলা গ্রামের দুদু কাজীর পুত্র সাজু মিয়া (৩৫), সদর উপজেলার হিচমী দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মানিক হোসেনের পুত্র রমজান আলী (৪০), সদর উপজেলার কুটিবাড়ী গ্রামের শরীফুল ইসলামের পুত্র আবদুল লতিফ (৩৫), পাঁচবিবি উপজেলা আটাপাড়া গ্রামের সাংবাদিক মৃত মোশারফ হোসেনের পুত্র সোনালী ব্যাংক, হিলি শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান ওরফে নাসিম (২৮), রেজাউল করিম রেজা (৪৫), পাঁচবিবি উপজেলার সিরাজুল ইসলামের পুত্র দুর্ঘটনা কবলিত বাসের কন্ডাক্টর জিয়া হোসেন (১৮), টাঙ্গাইল জেলার মাটিকাটা গ্রামের শুকুর আলীর পুত্র জুলহাস (৬০), সদর উপজেলার হারাইল গ্রামের মামুনুর রশিদ (২৫)। বাকি ১ জনের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জয়পুরহাট রেলস্টেশন, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী যাচ্ছিল। ট্রেনটি পাঁচবিবি রেলস্টেশন ছেড়ে জয়পুরহাট রেলস্টেশনে আসার পথে জয়পুরহাট সদর উপজেলা পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ে জয়পুরহাট থেকে ছেড়ে আসা হিলিগামী বাঁধন পরিবহন নামে (বগুড়া-জ-১১-০০০৮) একটি যাত্রীবাহী বাস রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল, এসময় উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনটির ওই যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা মারে।
এতে যাত্রীবাহী বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পুরানপৈল রেলক্রসিং থেকে দক্ষিণে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে আটকে যায়। ঘটনাস্থলেই দশ জনের ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ট্রেনের দুটি বগির ছয়টি চাকা লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ইঞ্জিন- রেলের স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর থেকেই ওই রুটে ৭ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এতে ঢাকা-রাজশাহী-খুলনাগামী ট্রেন যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পড়ে ২টা ৫০ মিনিটে ডাউন বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু করা হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

দুর্ঘটনার সময় জয়পুরহাট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বরত আবদুল হামিদ জানান, নয়ন ও রহমান নামে দুই জন গেটম্যান পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার পর তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির পিপিএম সাংবাদিকদের জানান, পুরানপৈল ট্রেন-বাস সংর্ঘষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে এক ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার বাসের কন্ডাক্টর ও অন্যরা বাসযাত্রী। বাসচালক মামুন হোসেনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে বগুড়া হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজা হাসান। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নিহতদের লাশ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


