মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ ও ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখতে নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন

সন্ধান২৪.কম : মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাঁধা, বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ঢাকা সেনানিবাসে ‘শিখা অনির্বাণ’ সার্বক্ষণিক প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবিতে নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

গত কাল ৩০ অক্টোবর সন্ধায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তয়ায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ’।

ছবি :সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংযুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের সভাপতি ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর এবং সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর চৌধূরী।

উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা  মকবুল হোসেন তালুকদার ,শওকত আকবর রিচি, ফারুক হোসাইন ও খুরশিদ আনোয়ার বাবুল ,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাকির হোসেন, প্রজন্ম ৭১‘র আহ্বায়ক  শিবলী সাদিক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রিনা আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাঁধার শুষ্ঠু বিচার, সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অত্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়,এইসব ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তে দোষীদের সনাক্ত করে দৃস্টান্তমুলক শাস্তি দাবী নিশ্চিত করতে হবে ।সেই সাথে ঢাকা সেনানিবাসে ‘শিখা অনির্বাণ’ সার্বক্ষণিক প্রজ্জ্বলিত রাখারও দাবী করা হয়।

সংবাদ সন্মেলনে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএস‘র লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা চিরস্মরণীয়। মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, জামাত-শিবির ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। পিরোজপুরের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়েতে ইসলাম  যে লজ্জাজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে তা জাতির জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে রইলো।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়,বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘শিখা অনির্বাণ’ এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের স্মারক। লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির কাছে এটি কেবল সামরিক আত্মত্যাগের প্রতীকই নয়, বরং স্বাধীনতা, মর্যাদা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের জন্য জাতির সংগ্রামেরও এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। ঢাকা সেনানিবাসের সেই ‘শিখা অনির্বাণ’-এ চিরজ্বলন্ত শিখাটির স্থায়ী পুনরুদ্ধার ও নিরবচ্ছিন্ন প্রজ্বলন বজায় রাখতে হবে।

আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ‘শিখা অনির্বাণ’-এর নিরবচ্ছিন্ন প্রজ্বলন বজায় রাখা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে, তবে ‘জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, ইউএসএ’ এ ক্ষেত্রে আর্থিক অনুদান রাখতে অথবা তহবিল সংগ্রহের কাজে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়।

খুব দ্রুত এই দাবীগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন না করলে,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে নিয়ে নিউইয়র্কে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এবং বর্তমান সরকারকে দাবী বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা করা হয়।

দাবীগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য  নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকারকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে জানান।

 

                                                  

 

Exit mobile version