অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গত সোম ও মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীরা শহীদদের সশ্রদ্ধ স্মরণ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কসহ গোটা আমেরিকায় বাঙলাদেশীদের গড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো
ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ এবং একুশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে দ্যাগ হ্যামারসজোল্ড পার্কসহ নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্নস্থানে ১৩টি অস্থায়ী শহীদ মিনারে নতুন প্রজন্মসহ প্রবাসীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে কালজয়ী সেই গান ‘আমার ভাইয়ের একুশে ফেব্রুয়ারি-আমি কী ভুলিতে পারি’ পরিবেশিত হয়।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর
২১ ফেব্রুয়াল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে টানা ৭ম বারের মত যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন করা হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের যৌথ অংশীদারিত্বে ইভেন্টটির আয়োজন করে ডেনমার্ক,গুয়াতেমালা,হাঙ্গেরি,ভারত, মরক্কো ও পূর্ব তিমুর। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সভাপতি সাবা কোরেশি।

বিগত বছরের মত এ বছরও জাতিসংঘের ছয়টি দাপ্তরিক ভাষায় গোটা অনুষ্ঠানটি অনুবাদের সুব্যবস্থা রাখা হয়। নিউইয়র্ক ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রী চিন্ময় কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিম সংগীত “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানটির আলোচনা পর্বে সকল সহযোগী দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিগণ, জাতিসংঘের জেনারেল এ্যাসেম্বলি ও কনফারেন্স ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল, ইউনেস্কো নিউইয়র্ক অফিসের প্রতিনিধি এবং নিউইয়র্ক শহরের মেয়রের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। তাছাড়া,স্প্যানিশ ভাষাভাষী ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে নিযুক্ত কিউবার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ভাষা বিষয়ক এনজিও কমিটির সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদগণ এবং ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই জাতির পিতার নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম, যার চূড়ান্ত পরিণতি পায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের মাধ্যমে।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ চেম্বার মিউজিক সোসাইটি,শ্রী চিন্ময় গ্রুপ এবং ভারতের স্নেহ্ আর্ট নামক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানের আগে সকালে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়।
ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাস
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার ‘মহান শহিদ দিবস’ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের নেতৃত্বে রাত ১২:০১ মিনিটে দূতাবাস প্রাঙ্গণে নির্মিত শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ‘অমর একুশে’ নিয়ে রচিত বিখ্যাত গান–“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”– বাজানো হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাসের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করেন। দিবসটি স্মরণে এক প্রভাত ফেরিরও আয়োজন করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে অবস্থিত জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্ররী বাণী পাঠ করে শোনান ডেপুটি চীফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার, মিনিস্টার (ইকনোমিক) মোঃ মেহেদী হাসান, মিনিস্টার (প্রেস) এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন এবং কাউন্সেলর (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) আরিফা রহমান রুমা।
পরে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভাষা আন্দোলনের শহিদের আত্মার মাগফেরাত এবং জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাস বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। পরে বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র তুলে ধরতে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের শিল্পীরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ, ভারত, প্যারাগুয়ে, ঘানা ও নেপালের শিল্পীরা এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সাংস্কৃতিক দল তাদের নিজস্ব সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-১) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) মোঃ আব্দুল হাই মিল্টন দিনব্যাপী দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চ
বাংলাদেশের একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিল রেখে সোমবার ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ১ মিনিটে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চ ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপন করে।

অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মোমেন , নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলীসহ কূটনীতিক, নিউইয়র্কের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যাঙ্গনের প্রতিনধিরা।
বাঙ্গালীর চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশার পরিচালনায় গত ৩১ বছরের মত এবছরও উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠা শিশু পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। মুক্তধারার পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন তোফাজ্জল লিটন।
অতিথিরা ছাড়াও শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টি, বাঙালীর চেতনা মঞ্চ, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন,যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী সম্মিলিত,বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন,জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা,গাইবান্ধা সোসাইটি,প্রবাসী মতলব সমিতি,বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল,আবহানী ক্রীড়া চক্র,জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলা ক্লাব,লক্ষ¥ীপুর সোসাইটি, রায়পুর সোসাইটি,নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ,যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ,সিলেট ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটি,গোলাপগঞ্জ সমিতি, রাজনগর উন্নয়ন পরিষদ,সিলেট গণদাবী পরিষদসহ অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা সোসাইটির সদস্য দুলাল সরকার,রেজা রহমান,দীলিপ মোদক,মাহফুজ তুহিন, মুক্তি সরকার, চামেলি গোমেজ গণসংগীত পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য,বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ,সাংবাদিক,নতুন প্রজন্ম ও কমিউনিটি সদস্যসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কনসাল জেনারেল, কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দকে নিয়ে কনুস্যলেটে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর শহীদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, বাণিজ্যিক ও কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বায়ান্নর সকল ভাষা শহীদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহীদ সদস্য, ৭১-এর সকল শহীদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইরিন পারভীন,উপদেষ্টা ডা.মাসুদুল হাসান,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাছিব মামুন,প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া এনাম, মোহাম্মদ সোলায়মান আলী, শাহানারা রহমান, মুজিবুর রহমান মিয়া, ইমদাদ চৌধুরী,মো. অহিদুজ্জামান লিটন,সৈয়দ জামান কিবরিয়া, জেড এ জয় জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি
প্রবাসের মাদার সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেছে।


২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে উডসাইডের তিব্বতি কমিউনিটি সেন্টারের বিশাল মিলনায়তনে আয়োজিত তাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রবাসের প্রায় ৬৫টি সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন,আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোররা আবৃত্তি,নৃত্য ও সংগীতে অংশ গ্রহন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা অমর একুশের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করতে এবং তাদেরকে উৎসাহ দিতে শিশু-কিশোরদের পুরস্কৃত করা হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো.রুহুল আমিন সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, নিউইয়ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু এবং মূলধারার রাজনীতিক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।
রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে প্রথমে ভাষা শহীদদের পুষ্পমাল্য অর্পন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃবৃন্দ। এরপর প্রবাসের প্রায় ৬৫টি সংগঠন সারিবদ্ধভাবে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করে।
অন্ষ্ঠুানের বিভিন্ন পর্ব যৌথভাবে সঞ্চালনায় করেন সাধারণ সম্পাদক মো.রুহুল আমিন সিদ্দিকী, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান,সদস্য সচিব ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী,কার্যকরী সদস্য মাইনুল ইসলাম মাহবুব ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ। এবারের সম্মিলিত একুশ উদযাপন কমিটির অন্য কর্মকর্তারা হলেন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত কর্মকর্তা- যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগঠনের সহ-সভাপতি ফারুক চৌধুরী,সমন্বয়কারী প্রদীপ ভট্টাচার্য,সুশান্ত দত্ত, শাহ মিজানুর রহমান ও ফারহানা চৌধুরী। নিবন্ধন উপকমিটির সদস্য মো.নওশেদ হোসেন,আবুল কালাম ভূঁইয়া ও আখতার বাবুল,স্মরণিকা উপকমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ, রিজু মোহাম্মদ ও আবুল বাশার ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্য ডা. শাহনাজ লিপি, মোহাম্মত টিপু খান ও মো. সাদী মিন্টু।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দলমত নির্বিশেষে অমর একুশের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জালালাবাদ এসোসিয়েশন
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার তাজ মহল পার্টি হলে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র উদ্যোগে সম্মিলিত শহীদ দিবস ও মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়।


সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বোর্ড অফ ট্রাস্টি অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, বদরুন নাহার খান মিতা, সায়দুন নূর, সাবেক বাংলদেশ সোসাইটি সভাপতি ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের অফ আমেরিকা ইনক’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক বোর্ড অফ ট্রাস্টি আজমল হোসেন কুনু, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের অফ আমেরিকা ইনক’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ মজিদ, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটি সভাপতি তোফাজল হোসেন আহমেদ ও হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতি ইউএসএ ইনক সভাপতি মোঃ আজদু মিয়া তালুকদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হোসেন আহমেদ। বাংলাদেশের ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের ক্লোজআপ শিল্পী রাজিব।
সূচনাতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদ আহমদ খান, প্রধান সম্মানকারী সংগঠনিক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলিম,শফিউদ্দিন তালুকদার,জামিল আনসারী, লোকমান হোসেন,শরিফুল হক মন্জু,সোহান আহমেদ টুটুল,নাজমুল হক মাহবুব,জাবেদ উদ্দিন, কামাল চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ টিপু,বশির উদ্দিন,আবদুল আহাদ, সাইফুর রহমান হারুন সাহান খান,জেড চৌধুরী জুয়েল প্রমুখ।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ রুহুল আলী, সৈয়দ আবুল কাশেম, জিল্লুর রহমান খান, শাহিন হাসানাত, জিল্লুর রহমান, এমদাদ আহমদ, কয়েজ আহমদ,রোকন আহমেদ,সাব্বির হোসেন, সৈয়দ নোমান, জোসেফ চৌধুরী,মানিক আহমেদ, সিদ্দিকুর রহমান, নাজমুল গনি,আবু চৌধুরী,আনজু খান, সাফাত আহমেদ,নাজমুল আলম,কয়েস আহমেদ,হারুন মিয়া প্রমুখ।
রাত ১২.০১ টায় শহীদের প্রতি পুস্পস্তবক প্রদান শুরু হয়, প্রথমে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের অফ আমেরিকা ইন্ক্ এর সভাপতির নেতৃত্বে কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রি পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এর পর একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক,আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
ঢাবি এলামনাই এসোসিয়েশন
উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে সম্মিলিত মহান একুশ উদযাপন হয়েছে।
২০ ফেব্রুয়ারী সোমবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই অনুষ্ঠান। এখানে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা,আলোচনা, কবিতা-আবৃতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদা আকতার লিলি। অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনায় ছিলেন যথাক্রমে নূপুর চৌধুরী, সাবিনা শারমিন নিহার, রুহুল আমিন সরকার, শারমিন রেজা ইভা ও গোলাম মোস্তফা।
সংগীতে অংশ নেয় বহ্নিশিখা সংগীত নিকেতন,বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আটস,উদীচী, সুরছন্দ শিল্পী গোষ্ঠী, অনুপ ড্যান্স একাডেমী ও শিল্পকলা একাডেমী।
অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন তাজুল ইমাম,সাবিনা শারমিন নিহার,শমিত মন্ডল,সবিতা দাস,অলিম উদ্দিন,নুপুর চৌধুরী,ইমদাদুল হক,আল্পনা গুহ,মনিকা রায় ও শেখ সিরাজ।
জয় বাংলাদেশ ইনক
অমর একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে জয় বাংলাদেশ ইনক সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডস্থ গুলশান ট্যারেসে একুশের অনুষ্ঠান আয়োজন করে।


অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শুভেচ্ছা বক্তব্য,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন প্রভৃতি।
মূল আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ। আবু জাফর মাহমুদ নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামসসহ সকল সিটি কাউন্সিলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিকে তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একইভাবে তারা বাংলাদেশিদের প্রাণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে জ্যাকসন হাইটস এর ৭৩ স্ট্রিটকে বাংলাদেশ স্ট্রিট নাম দিয়েছে। আপনারা জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এবার আমরা মেয়র এরিক এডামস এর বাসভবনে আয়োজন করতে যাচ্ছি। মাননীয় মেয়র এব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছেন এবং তার আন্তরিক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বাংলা সিডিপ্যাপ ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ারের পৃষ্ঠপোষকতায় আমরাই এই আয়োজনটি করতে যাচ্ছি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান শিল্পী ছিলেন বাংলাদশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী এস আই টুটুল। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুুষ্ঠানে অংশ নেন টনি ডায়েস,ঋতাজা ব্যানার্জি ও কানিজ দীপ্তি। যন্ত্র সংগীতে ছিলেন মাসুদ,তুষার,বিদ্যুৎ ,আকাশ ও শফিক। উপস্থাপনা করেন সোনিয়া। নৃত্য পরিবেশন করেন প্রিয়া ডায়েস ও তার দল।
২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি একুশের প্রথম প্রহর পেরিয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। অনুষ্ঠান মঞ্চে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে ছিল জয় বাংলাদেশ ইনক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার,শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ এসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক্, জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখা, ফ্রেন্ডস সোসাইটি পার্ক চেষ্টার,বাংলা সিডিপ্যাপ ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ার ইনক্। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক আদিত্য শাহীন।
অনুষ্ঠানে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত আবু জাফর মাহমুদের প্রবন্ধ সংকলন ‘জয় বাংলা, জয় বাংলাদেশ’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জয় বাংলাদেশ প্রকাশন’ থেকে।
সহযোগিতায় ছিলো বাংলা সিডিপ্যাপ সার্ভিসে ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ার ইনক।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়।
প্রগ্রেসিভ ফোরাম
প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ যথাযোগ্য মর্যাদায় “মহানশহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালন করেছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারী সন্ধায় জ্যাকসন হাইটসের মামাস রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. নজরুল ইসলাম।
সংগঠনের সভাপতি হাফিজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম,অধ্যাপক হুসনে আরা বেগম, সাবেক ছাত্রনেতা জুলফিকার হোসেন বকুল,সংগঠনের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বাচ্চু,সাংস্কৃতিক কর্মী মিনহাজ আহমেদ শাম্মু ও শহীদ উদ্দিন ,সংবাদ কর্মী আদিত্য শাহীন প্রমূখ। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক হিরো চৌধুরী।


প্রধান অতিথির ভাষণে নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেমে ধণিক শ্রেণীর ইংরেজী শিক্ষা,মাদ্রাসা শিক্ষা এবং আম-জনতার সন্তানদের জন্য সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে সবার জন্য বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যাবে না,ততদিন আমাদের বাংলা ভাষার ব্যবহার রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে না।
অন্যান্য বক্তরা বলেন, প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মের সন্তানদের আমাদের গৌরমময় ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার সাথে সাথে আমেরিকার মূল¯্রােতের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদেরকে বাঙালির শেকড়ের সাথে যুক্ত রেখে, এদেশের সংস্কৃতির সাথে যোগসুত্র স্থাপনের সুযোগ করে দিতে হবে।
শেষ পর্বে গাইবান্ধা সোসাইটির সদস্য দুলাল সরকার,রেজা রহমান,দীলিপ মোদক,মাহফুজ তুহিন, মুক্তি সরকার, চামেলি গোমেজ গণসংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়াও স্বরচিত কবিতা পাঠ ও কবিতা আবৃত্তি করেন আতিয়া সীমা,নিলভানা লিপি, সবুক্তগিন সাকী ও গোলাম মর্তুজা।
যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ
২০ ফেব্রুয়ারী রাতে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে উদযাপন হয় একুশের অনূষ্ঠান।


এছাড়াও জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে উদযাপন হয় একুশের অনূষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মমতাজ শাহানাজ। এরপর শুভেচ্ছা রাখেন অনুষ্ঠানের আর এক আহ্বায়ক নুরুজামান সর্দার। বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব ফরিদা ইয়াসমিন, আব্দুস সোবহান,শাহ শহীদুল হক প্রমূখ।
অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মহিলা আওয়ামী লীগের নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম,বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন,আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব,বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভি,যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ,যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ,গোপালগঞ্জ সমিতি, রাজবাড়ি সমিতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্টসহ আড়াই ডজন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
জেবিবিএ
গিয়াস আহমেদ ও তারেক হাসান খান নেতৃত্বাধীন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে স্থানীয় ডাইভারসিটি
প্লাজায় অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং অমর একুশে পালন করে।

অনুষ্ঠানে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশনের সভাপতি গিয়াস আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা একুশের উপর বক্তব্য রাখেন।
নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন
নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে জ্যামাইকার ইকরা পার্টি হলে একুশের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এখানে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। স্বাগত বক্তব্য করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: শফিউল আলম শফিক।
‘ডিসি একুশে এলায়েন্স’
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বাংলা ভাষা,সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে ‘ডিসি একুশে এলায়েন্স’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত একথা বলেন।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি বর্ণনা করে রাষ্ট্রদূত ইমরান উল্লেখ করেন, এই আন্দোলন বাঙালিদের অন্যায় ও অসাম্যকে প্রশ্রয় না দিতে এবং দমন-পীড়নকারী শক্তির কাছে মাথা নত না করতে শেখায়। তিনি বলেন, অমর একুশের চেতনা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আর্লিংটন কাউন্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ক্রিশ্চিয়ান ডরসে। আরলিংটন কাউন্টি বোর্ডের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
এ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন ড. ইশরাত সুলতানা মিতা এবং এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ড. আমিনুর রহমান ও ড. রুনা হক।
এ ছাড়াও নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টি,যুবদল,ষ্টেট বিএনপি,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,ছাত্রলীগ,ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান ভাষা দিবস উদযাপন করে।


