সন্ধান২৪.কম ঃ কলকাতায় মোদির বিগ্রেডে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিলেন মিঠুন চক্রবর্তী । তার এই যোগদানকে ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। ‘ফাটা কেষ্ট’ আর ‘মহাগুরুকে’ বিশ্বাসঘাতকের তকমা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রথম জীবনে নকশাল আন্দোলনের মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী ‘চেঞ্জ ইজ দ্য ওনলি কনস্ট্যান্ট ইন লাইফ’, মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন । তিনিই বাংলা তথা দেশের পয়লা নম্বর ‘ তথাকথিত অভিনেতা’ এই মুহূর্তে। অনেকে বলছেন, ইডির মামলা থেকে বাঁচতে এবং ছেলেকে বিভিন্ন মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতেই নাকি বিজেপিতে গেলেন মিঠুন।
একদা বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মহাগুরু সাদা রঙের ধুতি-পাঞ্জাবিতে গেরুয়া শিবিরে আশ্রয় নিলেন । ‘কৃষক রাজ-শ্রমিক রাজ কায়েম কর ’ ও ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ শ্লোগান ছেড়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে বিশ্বাস স্থাপন করলেন তিনি ।
বামেদের প্রাক্তন ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী, প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর ‘কাছের মানুষ’ ছিলেন তিনি। প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুকে ‘জ্যোতি আঙ্কেল’ বলে ডাকতেন।
সে সময় মিঠুন বলতেন, যতদিন কৃষক শ্রমিকার তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে না পারবে , যত দিন কমিউনিস্ট পার্টি থাকবে ততদিন তিনিও লাল ঝান্ডা নিয়ে মানুষের পাশে থাকবেন। কিনু বাম রাজনীতিতে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে মিলিয়ে নিতে না পেরে চলে এলেন মমতার তৃণমূলে। তৃণমূল কংগ্রেসে এসে মিঠুন বললেন, দিদি আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তা মনে থাকবে।

পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পাশে ঘুরে ঘুরে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবং তৃণমূলের টিকেটি বিধায়কও হয়েছিলেন। সেই সময় ইডির মামলায় জড়িয়ে পরেন মিঠুন। সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতে মমতার হাত ফাঁকা করে চলে আসেন। কিছুদিন আগে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের তাঁর মুম্বইয়ের বাড়ি গিয়ে, তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, মিঠুন’দার বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে বৈঠকের পর মোটামুটি সবটা স্পষ্টই ছিল। এর পর ধূতি-পাজ্ঞাবী পড়ে পরিপাটি সেজে তিনি নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশে এসেছেন মিঠুন । কিন্ত তার এই দল বদলকে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন। অনেকেই প্রশ্ন করছেন-নিজের সুবিধার জন্য এরপর ফাঁটাকেষ্ট কোন দলে যাবেন?


