সন্ধান২৪.কমঃ বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের গোল চত্বরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়,অসদাচরণের অভিযোগে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে আন্দোলন করছেন ছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্মতি দিয়ে জানিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলনে সংহতি জানাতে যাওয়া ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন আন্দোলনরত কয়েকজন ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমদ এবং প্রক্টর ড. আলমগীর কবীরের উপস্থিতিতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাখা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃন্ময় দাস ঝুটনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান, আশরাফ কামাল আরিফ, সজিবুর রহমান, রিশান তন্ময়, মাহবুবুর রহমান, রিশাদ ঠাকুর, সুমন মিয়া, সুমন সরকার, রাহিক, ফরহাদ হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, শফিউল হক রাব্বি এ হামলা চালায়।
ছাত্রলীগ নেতা আশরাফ কামাল আরিফ বলেন, ‘আমরা একটা অ্যাম্বুল্যান্সকে যাওয়ার জন্য রাস্তা ফাঁকা করে দিতে গেলে তারা বাধা দেয়। তখন এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটু হাতাহাতি হয়।’
প্রক্টর আলমগীর কবির বলেন, ‘একটি অ্যাম্বুল্যান্সকে পথ করে দিতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুল্যান্স যেতে বাধা দিলে একটু হাতাহাতি হয়।’
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, ‘প্রথমে একটা অ্যাম্বুল্যান্স আসলে আমরা সেটাকে পথ করে দিই। পরবর্তীতে আরেকটা অ্যাম্বুল্যান্স আসলে আমরা সেটাকেও পথ করে দিই। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্সের পেছন পেছন এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলরতদের মাঝে ঢুকে পড়ে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এসময় তারা কয়েকজন ছাত্রীকে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসা ১০-১২ জন ছাত্রকে তারা বেধড়ক মারধর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।’
এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।