সন্ধান২৪.কম: শনিবার মেরিল্যান্ডে এক সামরিক হাসপাতালে আহত সেনাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময়ে মাস্ক পরেন ট্রাম্প। আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৩ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরে এই প্রথম জনসমক্ষে মাস্ক পরলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মে মাসে মিশিগান সফরের সময়ে মাস্ক পরা ট্রাম্পের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ পায়। তবে সেই সময়ে সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দিতে বিস্তর আপত্তি ছিল প্রেসিডেন্টের। শনিবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময়ে খানিক বার্তা দেওয়ার ঢঙেই তিনি বলেন, ‘‘আমি কখনওই মাস্কের বিরোধী ছিলাম না। তবে আমি মনে করি ওটা সময় ও জায়গা বুঝে পরা উচিত।’’
আমেরিকায় প্রতি দিন রেকর্ড হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি দিন সংক্রমিত হচ্ছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। সূত্রের খবর, এই অবস্থায় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে মাস্ক পরার জন্য রীতিমতো অনুরোধ করছিলেন উপদেষ্টারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকায় অতিমারির সামাল দিতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। তার উপরে মাস্ক না-পরার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের প্রভাব পড়তে পারে নভেম্বরের নির্বাচনে। এই আশঙ্কাতেই ঘনিষ্ঠদের পরামর্শে মাস্কে রাজি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এ দিন ওয়াল্টার রিড মিলিটারি হাসপাতালের করিডরে গাঢ় রঙের মাস্ক পরে হাঁটতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। না-থেমেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে এলে আপনাকে মাস্ক পরতেই হবে। বিশেষ করে এখানে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’’
প্রকাশ্যে মাস্ক পরার জন্য মে মাসে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনকে নিয়ে যথেচ্ছ ঠাট্টা-তামাশাও করেন। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের ধারণা তিনি যদি মাস্ক পরেন তবে দেশের মানুষ মনে করবেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আতঙ্কিত। পাশাপাশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের চেষ্টা থেকে সকলের নজর ঘুরে যাবে জনস্বাস্থ্য সঙ্কটের দিকে। তাই সরাসরি না বললেও, শনিবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময়ে তাঁর গলার সুরে ধরা পড়েছে— নেহাত হাসপাতালে যাচ্ছেন বলেই নিমরাজি হয়ে মাস্ক পরেছেন তিনি।


