নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর যোগসূত্র স্থাপনকারী পদ্মা সেতু আজ বাস্তব হয়ে ধরা হয়েছে। এই সেতু নির্মাণের সময় যেসব চ্যালেঞ্জ সামনে আসে তার মধ্যে একটি ছিল সেতুটিকে ঘিরে নানা গুজব।
বিশাল এই প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণের কাজটি পায় চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। প্রকল্পে চীনের প্রায় ১৫০ প্রকৌশলী এবং ৩৫০ কর্মী যোগ দেয়।
২০১৫ সালের ১ মার্চ মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর পরীক্ষামূলক ভিত্তি স্থাপনের সময় নদীতে গরু ও খাসির রক্ত ঢালতে দেখা যায় চাইনিজ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। কয়েকটি মুরগিও ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
এটা চীনাদের প্রচলিত রীতি ও বিশ্বাস বলে সে সময় জানানো হয়। চীনারা বিশ্বাস করেন, বড় কোনো কাজের শুরুতে পশু উৎসর্গ করলে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
চীনা ওই রীতি রীতি নিয়ে তখন তেমন আলোচনা না থাকলেও ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে এসে এই সেতু নির্মাণ নিয়ে শুরু হয় নানা গুজব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়, পদ্মা সেতু তৈরিতে ‘মানুষের মাথা লাগবে’।
২০১৯ সালের ১৯ জুলাই নেত্রকোণায় এক যুবকের ব্যাগ থেকে একটি শিশুর মাথা পাওয়ার পর এই গুজব নতুন মাত্রা পায়। পদ্মা সেতুতে বলি দেওয়ার জন্য ওই যুবক কাটা মাথা সংগ্রহ করছিল বলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
ওই যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে ছেলে ধরার গুজব। আর তারমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত হয় নিরীহ মানুষ।
ওই বছরের ২০ জুলাই সকালে উত্তর বাড্ডা এলাকায় মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারী। তাকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়।
একই দিনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে পিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হন। একই জেলায় আরেক স্থানে এক নারী হন পিটুনির শিকার।
২১ জুলাই মিনু মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সয়া হাটে মাছ ধরার জাল কিনতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে জনতার পিটুনিতে নিহত হন।
