সম্পদের পাহাড় বানানো সেই মালেক ড্রাইভার সাময়িক বরখাস্ত এবং গ্রেফতার

সন্ধান২৪.কম : স্বাস্থ্য অধিদফতর গাড়িচালক আব্দুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে । রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কামারপাড়ার ৪২ নম্বর বামনেরটেক হাজী কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার বাসা থেকে মালেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

অধিদফতরের মহাপরিচালক  এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন,‘ বিভিন্ন অপরাধের কারণেই তাকে বরখাস্ত করেছি।’আজ সোমবার পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে তার মোট ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম।

 তিনি বলেন, ‘এটার অর্ডার গতকালই (রবিবার) ছিল। কিন্তু আমরা অফিশিয়ালি কাগজপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কিছু করতে পারছিলাম না। মিডিয়াতে দেখছি। কিন্তু আমাদের কাছে তো ডকুমেন্টস ছিল না। কারণ, উনি তো আমাদের অধীনে আমাদের অধিদফতরে ছিলেন না। তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরে ছিলেন। ওখান থেকে যখন সবকিছু পেলাম তখনই আমরা এটা ( বরখাস্ত) করে দিয়েছি। 

র‌্যাব জানায়, ড্রাইভার মালেকের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি তার এলাকায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন এবং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মালেক পেশায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলের একজন ড্রাইভার এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। তিনি ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে ড্রাইভার হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। সর্বশেষ, প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদফতরে কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সচিব এম এ মান্নান সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মালেকের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু একজন মালেকই নয়, আরও অনেক মালেক হয়তো এখানে আছে। আমরা তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছি। কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না, ছাড় পাওয়ার সুযোগ নাই।’

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরে ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজে সেই সংগঠনের সভাপতি হন। এই পদের ক্ষমতাবলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের ড্রাইভারদের ওপর একছত্র আধিপত্য কায়েম করেন। ড্রাইভারদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির নামে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতেন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে বিভিন্ন ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় ও বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম গত বছরের ২২ অক্টোবর তাকে দুদকে তলব করেন। তবে তার বিরুদ্ধে দুদক এখনও অনুসন্ধান শেষ করতে পারেনি।

 

Exit mobile version