৭ মার্চ থেকে কার্যকর
করোনা ভাইরাস মহামারীর কবলে পড়ে নিস্তরঙ্গ হয়ে পড়া নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মেয়র এরিক অ্য্যাডামস কিছু ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান ও ভ্যাকসিন নেওয়ার বিধিনিষেধের অবসান ঘটাতে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে আগামী ৭ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমের বাইরে মাস্ক না পরেই থাকতে পারবে, তবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাসরুমে মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্কুলগুলোর চ্যান্সেলর ডেভিড ব্যাঙ্কস। নিউইয়র্ক সিটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে করোনা সংক্রামিত রোগীর ভর্তি সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সিটি মেয়রের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল চ্যান্সেলর একথা জানান। যদিও অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে মেয়রের উচিত ছিল আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা।
নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের ঘন্টা বাজানোর অনুষ্ঠানে মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন যে তিনি শুধু স্কুলে মাস্ক পরার ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তই নেননি, রেস্টুরেন্ট, জিমনেশিয়াম, শপিং সেন্টারগুলোতে মাস্ক পরিধান বা ভ্যাকসিনের প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে যাচ্ছেন। গত সোমবার ওয়াল ষ্ট্রিটে তার উপস্থিতি ছিল করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত নগরীতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বোধ জাগ্রত করা। মেয়র তার শীর্ষ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পরই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি গত সোমবার ব্রঙ্কসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল, জনগণকে অধিক হারে ভ্যাকসিনেশনে উৎসাহিত করা এবং আমার বিশ্বাস আমরা তা অর্জন করেছি।’ সিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিউইয়র্কারদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ বয়স্ক ব্যক্তিসহ প্রায় ৭৭ শতাংশ পুরোপুরি ভ্যাকসিন নেওয়া সম্পন্ন করেছে। শিশুদের মধ্যে, যাদের বয়স ৫ থেকে ১৭ বছর, তাদের ভ্যাকসিন নেওয়ার হার সবচেয়ে কম, মাত্র ৫৬ শতাংশ। ৫ বছর বয়সের নিচে যাদের বয়স, এখনও তারা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বিবেচিত নয়।
বিভিন্ন স্থান থেকে যারা নিউইয়র্কে আসছে, বিশেষ করে যেসব স্থানে ভ্যাকসিন নেওয়ার হার খুব কম, সেক্ষেত্রে ভাইরাস বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ার যে আশঙ্কা রযেছে সে সম্পর্কে মেয়রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে, এ ব্যাপারে সিটি উদ্বিগ্ন নয়। আমরা পর্যটনকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে চাই, কারণ পর্যটন আমাদের সিটির অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অবসানে মেয়রের ঘোষণাকে সিংহভাগ নিউইয়র্কার স্বাগত জানালেও কিছু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে মেয়র এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত নিতে তড়িঘড়ি করে ফেলেছেন। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের জীবাণুবিজ্ঞানের এক প্রফেসর ডা: স্টিফেন মোর্স বলেছেন যে মেয়র যদি আরও এক বা দু’মাস অপেক্ষা করতেন তাহলে তিনি বরং বেশি স্বস্থি বোধ করতেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের ভ্যাকসিন নেওয়া সম্পন্ন করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলে অথবা আমরা যদি নতুন নতুন ভেরিয়েন্ট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জানতে পারতাম, তাহলে আমাদের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা বা না করার সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া সহজ হতো। কারণ আমরা জানি না যে পরবর্তী ভেরিয়েন্ট কেমন হবে।
মাস্ক পরিধান যে পুরোপুরি প্রত্যাহার নেওয়া হচ্ছে তা নয়। বাস, সাবওয়ে, ব্রডওয়ে থিয়েটারে মাস্ক পরিধানের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে। সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিওরর শীর্ষ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জয় বর্মা সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বেসরকারি নিয়োগকারীদের ভ্যাকসিন ম্যান্ডেট প্রত্যাহার না করার জন্য।


