‘হরিলুট’ অপবাদ খন্ডন করতে বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন

সন্ধান২৪.কম : বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ করে, ‘হরিলুট’ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন গুরুতর আর্থিক অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগ খন্ডন করতে গত কাল ২৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি নিউইয়র্কে তাদের নিজস্ব কাযার্লয়ে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লিখিত দীর্ঘ আট পৃষ্ঠার বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ,সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আজ আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করতে হয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন জনসমাগমে সোসাইটির কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ সোসাইটি বর্তমান কার্যকরী পরিষদ এবং এর কর্মকর্তা নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এসব বক্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে এবং কমিউনিটির মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আজ আমরা কোনো পাল্টা অভিযোগ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য নয়, বরং উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রকৃত তথ্য ও বাস্তবতা আপনাদের মাধ্যমে কমিউনিটির সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।

আপনারা সকলেই জানেন, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সেলিম—আলী নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ প্যানেল সম্মানিত সদস্যদের বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ শপথ গ্রহণ করে এবং সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও বিধি অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ সোসাইটি ৫১ বছরের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সোসাইটির কার্যক্রম হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সদস্যদের জন্য সহজলভ্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ,
আপনাদের সামনে আজ আমরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কিছু তথ্য ও বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪—এর অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্যে জানানো হয়েছিল যে, সোসাইটির অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ডলার রেখে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক দায়দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর আমরা দেখতে পাই, অ্যাকাউন্টে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৭৩.৮৯ ডলার।

এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। এই অর্থের বিপরীতে অভিষেক অনুষ্ঠানসহ পূর্ববর্তী কমিটির সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেবা ও অন্যান্য খাতে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দায়ও আমাদের পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ, সব দায় সমন্বয় করলে কার্যত মাত্র ১ লক্ষ ১৬ হাজার ডলারের নিট আর্থিক অবস্থান নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্ব গ্রহণ করি।

প্রিয় সংবাদকর্মী বন্ধুগণ,
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা থেমে থাকিনি। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও জনমুখী, কল্যাণমুখী ও কার্যকর একটি সংগঠনে পরিণত করব। সেই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে আমাদের কার্যকরী পরিষদের প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আমরা কার্যত মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এই সময়ে অর্থ সঞ্চয় করতে গিয়ে আমরা সোসাইটির কার্যক্রম থামিয়ে রাখিনি গত ২০ মাসে বরং অত্যন্ত জমকালো আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছি, পবিত্র রমজানে নিউইয়র্ক সিটির বাঙালি অধ্যুষিত চারটি এলাকায় মোট ৮টি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন সেমিনার, এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত সেমিনারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছি।

সদস্যদের দুঃসময়ে আমরা পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সোসাইটির কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে, তাঁর পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রয়োজন অনুযায়ী ফিউনারেল সহায়তা, সোসাইটির নিজস্ব কবরের ব্যবস্থা অথবা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি।

এতসব কর্মসূচি, অনুষ্ঠান, সহযোগিতা ও জনকল্যাণমূলক ব্যয় করার পরও আলহামদুলিল্লাহ, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় এক মিলিয়ন ডলার (৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার) ।

আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে এ পরিমাণ অর্থ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত থাকার নজির নেই। আমরা ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার দিয়ে শুরু করেছিলাম, আজ তা প্রায় এক মিলিয়ন ডলার। আমরা মনে এই অর্জনের কৃতিত্ব বর্তমান কার্যকরী পরিষদের একার নয়। এর কৃতিত্ব বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিটি সম্মানিত সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সর্বোপরি প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির। বর্তমান কার্যকরী পরিষদের উপর আপনাদের আস্থা, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ,
এবার আসি আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার প্রসঙ্গে। আমরা অভিযোগগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই এবং একই সঙ্গে প্রতিটির বিপরীতে তথ্য ও প্রকৃত বাস্তবতাও উপস্থাপন করতে চাই।

এতদিন আমরা এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে সদস্যদের সেবা এবং সোসাইটির কাজকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সময়ে নানা কথা আসে প্রতিটি কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন আমরা অনুভব করিনি। আমরা এতদিন এসব বক্তব্যের জবাব না দেওয়ায় এখন লক্ষ্য করছি, কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও, এমনকি আগামী নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এমন একাধিক ব্যক্তিও, যথাযথ যাচাই—বাছাই না করেই বিভ্রান্তিকর এসব তথ্য তাদের বক্তব্যে তুলে ধরছেন। এতে একই ভুল তথ্য বারবার প্রচারিত হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবেই সদস্য ও কমিউনিটির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে তখন সঠিক তথ্য তুলে ধরাকে আমরা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি।

১. ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

গণমাধ্যমের শ্রদ্ধেয় প্রতিনিধিবৃন্দ,
কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নাকি বাংলাদেশ সোসাইটির ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ করেছে, এমনকি ‘হরিলুট’ করেছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি আর্থিক অভিযোগ।

আমরা কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি বা ব্যক্তিগত বিতর্কে যেতে চাই না। আমরা হিসাব, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলতে চাই। যারা এই অভিযোগ করছেন, তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ বা আত্মসাৎ করেছে, এর পক্ষে ন্যূনতম কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা সোসাইটির সদস্যদের সামনে প্রকাশ করুন। আমরা সেই প্রমাণকে স্বাগত জানাব এবং প্রকাশ্যেই তার জবাব দেব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এত বড় আর্থিক অভিযোগ বারবার প্রচার করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না।

এবার আসুন প্রকৃত হিসাবের দিকে।

আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন সোসাইটির অ্যাকাউন্টে কার্যত মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলারের আর্থিক অবস্থান নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়।

এরপর সোসাইটির কার্যক্রম থেমে থাকেনি। বরং সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং সোসাইটির পরিধি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ৫০ বছর পূর্তির বড় আয়োজন, গত দুই বছরে বাঙালি অধ্যুষিত চারটি এলাকায় ৮টি ইফতার মাহফিল, দুটি একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান, দুই দুইটি বাংলা স্কুল পরিচালনা খরচ এবং আরও বহু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আমরা পরিচালনা করেছি। একই সময়ে অফিস পরিচালনা ও সোসাইটির নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল।

জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সোসাইটির নিয়মিত অপারেটিং ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৪৭ ডলার এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৪১৮ ডলার। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ব্যয়ের হিসাব ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৫ ডলার, ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার নয়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে এতসব কার্যক্রম ও ব্যয়ের পরও গত গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত রয়েছে।

আমরা কারও কাছ থেকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা চাই না। আমরা শুধু বলছি হিসাবগুলো দেখুন এবং তারপর আপনারাই বিচার করুন, ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ‘হরিলুটের’ যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব হিসাবের মিল কোথায়? আমরা শুধু চাই, সত্যটা সদস্যদের সামনে পরিষ্কার থাকুক।

ইনশাআল্লাহ, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার সকল কার্যক্রম ও দায়দায়িত্ব সম্পন্ন করার পরও আমরা যে আর্থিক অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম, তার চেয়ে অনেক গুণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অর্থ সোসাইটির জন্য রেখে যেতে চাই। এটাই সদস্যদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।

২. বাংলাদেশ সেন্টার ক্রয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য

আমাদের প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বর্তমান কার্যকরী পরিষদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। সীমিত অর্থ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও আমরা এই বড় স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে যাইনি। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপযুক্ত ভবনের সন্ধান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করি।

আপনারা জানেন, এটি কোনো ছোট প্রকল্প নয়। নিউইয়র্কে একটি উপযুক্ত কমিউনিটি সেন্টারের ভবন কিনতেই কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। অথচ আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, পূর্ববর্তী দায়দেনা সমন্বয়ের পর আমাদের কার্যকর আর্থিক অবস্থান ছিল মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার। তারপরও আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমাদের বিশ্বাস ছিল সৎ উদ্দেশ্য, সঠিক পরিকল্পনা এবং কমিউনিটির সহযোগিতা থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর জ্যামাইকা এলাকায় একটি ভবন আমাদের পছন্দ হয়। অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কমিউনিটির সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক যাচাই—বাছাইয়ের পর কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের আলোচনায় ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আমাদের অ্যাটর্নির মাধ্যমে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ শর্তসাপেক্ষ ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। সোসাইটির পক্ষ থেকে ২ লাখ ডলার ডিপোজিট প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ব্যক্তিগতভাবে অনুদান হিসেবে প্রদান করেন।

চুক্তিটি ছিল শর্তসাপেক্ষ। ভবনটিতে কিছু ভায়োলেশন ও অন্যান্য অসঙ্গতি ছিল এবং সেগুলো সমাধানের শর্তেই আমরা এগিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বিক্রেতা পক্ষ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারায় সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা চুক্তি বাতিল করি এবং সম্পূর্ণ ২ লাখ ডলার ডিপোজিট ফেরত নিয়ে আসি।

আমরা চাইলে সমস্যাসহ ভবনটি কেনার দিকে এগিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু শুধু একটি ভবন কিনে প্রচার পাওয়া আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি, যা ভবিষ্যতে সোসাইটির সম্পদের পরিবর্তে দায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এরপরও বলা হচ্ছে, আমরা নাকি ভবন কেনার বিষয়ে সত্য বলিনি বা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছি। অথচ ৩১ অক্টোবর আমাদের প্রকাশিত বক্তব্য ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার:

“নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ সেন্টার বা বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠার পথে আমরা প্রথম ধাপ সম্পন্ন করলাম।”

আমরা কখনো বলিনি, “ভবন কিনে ফেলেছি।” আমরা বলেছিলাম “প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছি” কারণ শর্তসাপেক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২ লাখ ডলার ডিপোজিট প্রদানের মাধ্যমে বাস্তবেই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

আরেকটি কথা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই। আজ যারা এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের অনেকেই অতীতে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। আমরা তাদের অবদানকে সম্মান করি। তবে তাদের সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ সেন্টার কেনার প্রক্রিয়া এই পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ অন্তত সেই সাহসী উদ্যোগটি নিয়েছে। প্রথম প্রচেষ্টায় ভবনটি কিনতে না পারলেও আমরা সোসাইটির অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি এবং সম্পূর্ণ ডিপোজিট ফেরত এনেছি।

আমাদের চেষ্টা এখানেই শেষ নয়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি এবং শেষ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেন্টারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। তবে কোনো অবস্থাতেই সোসাইটির স্বার্থ ও আর্থিক নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে নয়।

আমাদের অনুরোধ একটাই অভিযোগের আগে তথ্য যাচাই করুন। বাংলাদেশ সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা একটি পরিষদের স্বপ্ন নয়; এটি আমাদের পুরো কমিউনিটির এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ার স্বপ্ন।

৩. সোসাইটির ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জবাব

উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,
এবার আসি বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে।

প্রথমেই একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই এই ভায়োলেশনগুলো বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সময়ে সৃষ্টি হয়নি এবং এর বিপরীতে আরোপিত জরিমানাও আমাদের মেয়াদকালের নয়। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় এগুলো পূর্ববর্তী সময় থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। এ সংক্রান্ত তথ্য নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাবলিক রেকর্ডে রয়েছে; যে কেউ চাইলে তা যাচাই করতে পারেন।

আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেখতে পাই, সোসাইটির ভবনের ওপর পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন ভায়োলেশন বাবদ প্রায় ৮২ হাজার ডলারের মত জরিমানা রয়েছে। বছরের পর বছর এক কমিটি থেকে আরেক কমিটির কাছে বিষয়টি চলে এসেছে, কিন্তু এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।

আমরা চাইলে দায়িত্ব নিয়েই সোসাইটির অর্থ থেকে পুরো জরিমানা পরিশোধ করে বিষয়টি শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা মনে করেছি, সেটি সোসাইটির অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হবে না। যে অর্থ সোসাইটির সদস্যদের, সেই অর্থ থেকে এক ডলার খরচ করার আগেও আমাদের দেখতে হবে আইনসম্মতভাবে সেই ব্যয় কমানোর বা এড়ানোর কোনো সুযোগ আছে কি না।

এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি পেশাদার ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছি। যেহেতু বাংলাদেশ সোসাইটি একটি নন—প্রফিট প্রতিষ্ঠান, তাই আইনগতভাবে জরিমানা কমানো, সমন্বয় করা কিংবা সম্ভব হলে সম্পূর্ণ মওকুফের কোনো সুযোগ রয়েছে কি না সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, এবং কাজটি এখনো চলমান।

আমাদের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮২ হাজার ডলারের জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ডলারে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানেই আমরা থামতে চাই না। আইনসম্মতভাবে আরও কমানো বা সম্পূর্ণ মওকুফের সুযোগ থাকলে আমরা শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা চালিয়ে যাব। প্রয়োজন হলে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার সক্ষমতা সোসাইটির রয়েছে; কিন্তু তার আগে সদস্যদের অর্থ সাশ্রয়ের সব বৈধ সুযোগ কাজে লাগানোই আমরা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত বলে মনে করি।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাদের নির্বাচিত করেছেন সোসাইটির সম্পদ রক্ষা করার জন্য। এই ভবন কোনো ব্যক্তি বা একটি কমিটির সম্পত্তি নয়; এটি আমাদের কমিউনিটির সম্পদ এবং আমাদের কাছে একটি আমানত। অতীতে সমস্যাটি কার সময়ে সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে অজুহাত বানিয়ে আমরা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাইনি। সমস্যা আমরা সৃষ্টি করিনি, কিন্তু সমাধানের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।

তাই যারা বলছেন বর্তমান কমিটি জরিমানা দিয়েছে, দিতে চায় না, অথবা এই ভায়োলেশন বর্তমান কমিটির সময়ে হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ, বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পাবলিক রেকর্ড ও তথ্যগুলো যাচাই করুন। সমালোচনা করুন, প্রশ্ন করুন আমরা উত্তর দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তথ্য যাচাই না করে এমন বক্তব্য দিলে সদস্যদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

আর বাংলাদেশ সোসাইটির সম্মানিত সদস্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ তথ্য দেখুন, রেকর্ড দেখুন, তারপর আপনারাই বিচার করুন। এই সমস্যা আমরা সৃষ্টি করেছি, নাকি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি।

৪. বার্ষিক ইফতার মাহফিলের ব্যয় নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি

প্রিয় মিডিয়া প্রতিনিধিবৃন্দ,
বাংলাদেশ সোসাইটির বার্ষিক ইফতার মাহফিল নতুন কোনো আয়োজন নয়। যুগ যুগ ধরে এটি সোসাইটির একটি নিয়মিত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ধর্মীয়—সামাজিক আয়োজন। তবে অতীতে এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের সঙ্গে বাস্তবতা বদলেছে। আজ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সোসাইটি যদি সবার হয়, তাহলে সোসাইটির আয়োজনও সবার দোরগোড়ায় পেঁৗছাতে হবে।

এটি আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও একটি অংশ ছিল। তাই একটি এলাকায় একটি বড় অনুষ্ঠান করে নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাঙালি অধ্যুষিত চারটি এলাকায় ইফতার মাহফিল নিয়ে গিয়েছি। গত দুই বছরে আমরা মোট ৮টি ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছি, যাতে সাধারণ সদস্য, পরিবার, শিশু—কিশোর, নতুন প্রজন্মসহ কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ সহজে অংশ নিতে পারেন।

এবার আসি খরচের হিসাবে। বলা হচ্ছে, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ইফতার মাহফিলে প্রায় ৮৯,০০০ হাজান ডলার খরচ করেছে। সংখ্যাটি মোট ব্যয় হিসেবে ঠিক, কিন্তু যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেখানে পুরো চিত্রটি বলা হচ্ছে না। এই ৮৯,০০০ হাজান ডলার একটি ইফতার মাহফিলের খরচ নয়; এটি দুই বছরে চারটি এলাকায় অনুষ্ঠিত মোট ৮টি ইফতার মাহফিলের সম্মিলিত ব্যয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে, এই মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪২ হাজার ৫৭০ ডলারের বেশি এসেছে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা থেকে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়েছেন আমাদের বোর্ড অব ট্রাস্টির ও কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তারা। অর্থাৎ সোসাইটির নিজস্ব ফান্ড থেকে ৮টি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার গড়ে প্রতিটি ইফতার মাহফিলে মাত্র ৫,৮০৩.৭৫ ডলার।

আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, অতীতে একটি ইফতার মাহফিল আয়োজনেই যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতো, অথচ এখন ৮টি অনুষ্ঠানের মোট ব্যয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন একটি অনুষ্ঠানেই ৮৯,০০০ হাজান ডলার খরচ করা হয়েছে। আমাদের আপত্তি এখানেই খরচ নিয়ে প্রশ্ন করুন, কিন্তু পুরো হিসাবটিও মানুষের সামনে তুলে ধরুন।

আপনারা অনেকেই এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দুই বছরের সবগুলো ইফতার মাহফিল আয়োজন মিলিয়ে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ আমাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বেশী শিশু—কিশোর ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের কাছে এটি শুধু একটি ইফতার আয়োজন ছিল না; এটি ছিল সোসাইটির সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

এখন আমরা বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেই প্রশ্নটি রাখতে চাই সোসাইটির একটি অনুষ্ঠান যদি একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেটি কি অপচয়? নাকি সোসাইটিকে সত্যিকার অর্থে সবার সংগঠনে পরিণত করার প্রচেষ্টা?

আমরা কাউকে আমাদের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করতে বলছি না। হিসাব সামনে আছে, অনুষ্ঠানগুলোও আপনাদের চোখের সামনে হয়েছে। আপনারাই বিচার করুন।

আমাদের নীতি পরিষ্কার বাংলাদেশ সোসাইটি কোনো বিশেষ এলাকা, গোষ্ঠী বা কিছু মানুষের জন্য নয়। বাংলাদেশ সোসাইটি সবার। তাই সোসাইটির সেবা ও আয়োজনও যতটা সম্ভব সবার কাছে পেঁৗছাতে হবে।

এই বিশ্বাস থেকেই আমরা কাজটি করেছি। ভবিষ্যতেও সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী সোসাইটির কার্যক্রমকে আরও বেশি মানুষের কাছে পেঁৗছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

৫. কর্মকর্তাদের নামে ইস্যুকৃত চেক নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির জবাব।

গণমাধ্যমের শ্রদ্ধেয় বন্ধুগণ,
আরেকটি বিষয় নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি নাকি বর্তমান কার্যকরী পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নামে চেক ইস্যু করেছে। বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন কর্মকর্তারা সোসাইটির অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে গেছেন।

বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় এমন কিছু জরুরি খরচ আসে, যেখানে নগদ অর্থে পেমেন্ট করতে হয়। অথচ সোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইচ্ছামতো নগদ অর্থ উত্তোলন করে খরচ করার প্রচলিত ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রয়োজনে সভাপতি, সিনিয়র সহ—সভাপতি, সহ—সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজের পকেট থেকে সোসাইটির অনুমোদিত খরচটি পরিশোধ করেন। পরে সেই খরচের যথাযথ রসিদ বা ভাউচার জমা দেওয়ার পর তা যাচাই—বাছাই করা হয় এবং ব্যয়টি সঠিক প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তার নিজের খরচ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য তার নামে চেক ইস্যু করা হয়।

এটি ব্যক্তিগতভাবে সোসাইটির অর্থ নেওয়া নয়; এটি সোসাইটির জন্য আগে নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করা অর্থের ৎবরসনঁৎংবসবহঃ।

একটি সাধারণ উদাহরণ দিই। গত সাধারণ সভা কিংবা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিনের মতো বড় আয়োজনে উপস্থিত সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করতে হয়েছে। তাদের নগদ অর্থে পেমেন্ট করতে হয়। তখন সোসাইটির একজন কর্মকর্তা নিজের পকেট থেকে সেই অর্থ পরিশোধ করেছেন। পরে যথাযথ ভাউচার ও খরচের প্রমাণ জমা দেওয়ার পর সোসাইটি তাকে সেই অর্থ চেকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে।

এটি আজ নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়। আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এমন ৎবরসনঁৎংবসবহঃ—এর প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই যথাযথ হিসাব, রসিদ, ভাউচার এবং যাচাই—বাছাই থাকতে হবে এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শুধু একটি চেকে কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নাম দেখিয়ে যদি বলা হয়, “দেখুন, সোসাইটির টাকা ব্যক্তির নামে চলে গেছে,” তাহলে সেটি পুরো লেনদেনের প্রকৃত কারণ না বলে একটি অসম্পূর্ণ চিত্র সদস্যদের সামনে তুলে ধরা।

আমাদের কমিউনিটির অনেক সম্মানিত সদস্য নিজেরাও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অলাভজনক সংগঠন পরিচালনা করেন। আপনারা জানেন, একটি সংগঠন চালাতে গিয়ে কখনো কখনো জরুরি প্রয়োজনে একজন কর্মকর্তাকে নিজের পকেট থেকে অর্থ দিতে হয়। কেউ যদি সোসাইটির প্রয়োজনে নিজের অর্থ আগে খরচ করেন এবং পরে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে শুধু সেই অর্থটুকু ফেরত নেন, সেটিকে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ বা অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক সেটি আপনারাই বিচার করুন।

আমরা প্রশংসা চাই না। কিন্তু যে ব্যক্তি সোসাইটির কাজ থেমে না যাওয়ার জন্য প্রয়োজনে নিজের পকেট থেকে অর্থ দিয়েছেন, অন্তত তাকে সেই কাজের জন্য অভিযুক্ত করা উচিত নয়।

তাই আমাদের সম্মানিত সদস্যদের প্রতি অনুরোধ শুধু চেকে কার নাম লেখা আছে, সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। চেকটি কেন ইস্যু হয়েছে, কোন খরচের বিপরীতে হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রসিদ ও ভাউচার আছে কি না পুরো হিসাবটি দেখুন।

আমরা তথ্য গোপন করতে চাই না। প্রশ্ন করুন, হিসাব দেখুন, প্রমাণ যাচাই করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। কারণ বাংলাদেশ সোসাইটির অর্থের প্রতিটি ডলারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

৬. বার্ষিক সাধারণ সভা, হিসাব ও অডিট প্রসঙ্গে

আমাদের প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ,
কমিউনিটির একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ সংগঠক স¤প্রতি বাংলাদেশ সোসাইটির হিসাব, অডিট এবং আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি দীর্ঘদিন কমিউনিটিতে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর প্রশ্ন করার অধিকারকেও সম্মান করি।

তবে বিনয়ের সঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই বাংলাদেশ সোসাইটি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছায় পরিচালিত হয় না; এটি পরিচালিত হয় এর গঠনতন্ত্র ও বিধি অনুযায়ী। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সেই নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছে এবং মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত সেভাবেই পরিচালনা করবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ডিসেম্বর মাসে আমরা বার্ষিক সাধারণ সভা করেছি। সেখানে সিপিএ রিপোর্টসহ সোসাইটির আয়—ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। শুধু মৌখিকভাবে নয়, সদস্যরা যেন নিজের চোখে হিসাব দেখতে ও বুঝতে পারেন, সে জন্য সোসাইটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় এলইডি স্ক্রিনে বিস্তারিত আর্থিক তথ্য তুলে ধরা হয়। উপস্থিত সদস্যদের আলোচনা ও প্রশ্নের পর সেই হিসাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

ইনশাআল্লাহ, আগামী ডিসেম্বরেও যথারীতি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সোসাইটির আয়—ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট আবারও সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। কারও কোনো প্রশ্ন, সংশয় বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন থাকলে আমরা তাঁকে সেই সভায় স্বাগত জানাই। প্রশ্ন করুন, হিসাব দেখুন, প্রয়োজন হলে ব্যাখ্যা চান আমরা জবাব দিতে প্রস্তুত।

একই সঙ্গে একটি বাস্তবতাও সদস্যদের সামনে রাখতে চাই। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সোসাইটির অ্যাকাউন্টে ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৩ ডলার। আজ, সকল নিয়মিত কার্যক্রম, সদস্যসেবা এবং বড় বড় কর্মসূচির ব্যয় বহন করার পরও সোসাইটির বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় এক মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই আর্থিক অবস্থান কোনো একজন ব্যক্তির একক কৃতিত্ব নয়; কার্যকরী পরিষদের সম্মিলিত পরিশ্রম এবং সর্বোপরি সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে।

আমরা বলছি না যে আমাদের কোনো ভুল হতে পারে না। মানুষ হিসেবে ভুল হতে পারে। কোনো ভুল তথ্য—প্রমাণের মাধ্যমে আমাদের সামনে তুলে ধরলে সেটি স্বীকার করা, সংশোধন করা এবং সদস্যদের কাছে জবাবদিহি করার মানসিকতা আমাদের রয়েছে। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ আমাদের পছন্দ করুন বা না করুন, আমাদের কাজের সমালোচনা করুন, প্রশ্ন করুন; কিন্তু সোসাইটির হিসাব বা আর্থিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে অনুগ্রহ করে তথ্যগুলো যাচাই করুন। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য যেন আমাদের সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তির কারণ না হয়।

বর্তমান কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শেষ দিন পর্যন্ত আমরা গঠনতন্ত্র মেনে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।

৭. ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রকৃত সত্য কী?

সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বাংলাদেশ সোসাইটির সবচেয়ে মানবিক ও সংবেদনশীল সেবাগুলোর একটি হলো ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের ব্যবস্থা। একজন সদস্য যখন তাঁর প্রিয়জনকে হারান, তখন সেই পরিবারটি জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অসহায় সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। সেই মুহূর্তে শুধু একটি কবর বা আর্থিক সহায়তা নয় প্রয়োজন হয় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষের। বাংলাদেশ সোসাইটি সেই কঠিন সময়ে তার সদস্যদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

কোনো সদস্য বা তাঁর পরিবারের কেউ মৃত্যুবরণ করলে আমরা সাধ্যমতো পাশে দাঁড়াই। মুসলিম সদস্যদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী কবরের ব্যবস্থা করা হয়। যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের বিনামূল্যে কবর দেওয়া হয়; যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় অনুদান দিয়ে থাকেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সদস্যদের ক্ষেত্রেও ফিউনারেল সার্ভিসের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

কোভিডের কঠিন সময়ে আমাদের প্রয়াত সাবেক সভাপতি মরহুম কামাল আহমেদের নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সোসাইটির কবর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। বহু পরিবার সেই সেবা পেয়েছে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই মানবিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে শুনছি, বলা হচ্ছে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নাকি কবর বা ফিউনারেল সার্ভিসের অর্থ শেষ করে ফেলেছে কিংবা সেই অর্থের কোনো হিসাব নেই। আমরা অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে পরিষ্কার করে বলতে চাই এটি সঠিক নয়। একটি ডলারও হারিয়ে যায়নি। অর্থের হিসাব আছে এবং অর্থ তার নির্ধারিত জায়গায় রয়েছে।

বরং স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত করতে ফিউনারেল ও কবর সংক্রান্ত অর্থের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কার্যকরী পরিষদে এ বিষয়ে রেজুলেশনও গৃহীত হয়েছে। এই খাতের অর্থ এই ফান্ডেই থাকবে এবং ফিউনারেল ও কবরের প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হবে।

আরও পরিষ্কারভাবে আমাদের সদস্যদের আশ্বস্ত করতে চাই বর্তমানে বাংলাদেশ সোসাইটির কাছে সদস্যদের প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত কবরের ব্যবস্থা এবং ফিউনারেল সার্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রয়েছে। শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের চাহিদার কথাও আমরা ভাবছি সে জন্য আরও কবরের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এবার কবর ক্রয়সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে পরিষ্কার করতে চাই।
আমরা ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ শপথ গ্রহণ করি এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে জানতে পারি, আমাদের শপথ গ্রহণের দিনই বিদায়ী কার্যকরী পরিষদেও সময় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কবর ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার প্রদান করা হয়েছিল।

সেই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়ায় গঠনতান্ত্রিক প্রশ্ন দেখা দেওয়ায় কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমাদের আহ্বানে বিদায়ী পরিষদের তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় তাঁদের প্রক্রিয়াগত এবং সাংবিধানিক ভুলটি বুঝতে পারেন এবং অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

পরবর্তীতে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে। আলোচনার পর তারা সম্পূর্ণ ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার কয়েকটি কিস্তিতে বাংলাদেশ সোসাইটিকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। তাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সাংবাদিক বন্ধুরা চাইলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি স্বাধীনভাবেও যাচাই করতে পারেন।

কবর সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয় আমাদের পর্যালোচনায় রয়েছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চাই না। সংশ্লিষ্ট পক্ষ সময় চেয়েছেন এবং আমরা সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিতে চাই। প্রয়োজন হলে যথাসময়ে তথ্য ও নথি সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হবে।

সবশেষে শুধু এটুকু বলতে চাই মৃত মানুষের শেষ বিদায় এবং শোকাহত পরিবারের সহায়তার মতো একটি মানবিক বিষয়কে আমরা যেন গুজব বা বিভ্রান্তির বিষয় না বানাই।

আমাদের সদস্যদের আবারও আশ্বস্ত করছি কবর আছে, ফিউনারেল সার্ভিসের অর্থ আছে, হিসাব আছে এবং সেবা অব্যাহত আছে। আরও কবরের ব্যবস্থা করার কাজও চলমান রয়েছে।

কোনো সদস্যের পরিবার যখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে বাংলাদেশ সোসাইটির কাছে আসবে, আমরা চাই তারা অন্তত একটি বিষয়ে নিশ্চিত থাকুক তারা একা নন। বাংলাদেশ সোসাইটি তাদের পাশে আছে।

৮. অন্যান্য অভিযোগ ও আমাদের অবস্থান

সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ,
এগুলো ছাড়াও আমাদের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ, অপবাদ, ভুল ব্যাখ্যা এবং অর্ধসত্য তথ্য বিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিটি বিষয় নিয়ে আজ কথা বলতে গেলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হবে। আমরা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না, আর প্রতিটি কথার পাল্টা কথা বলাকেও আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি না।

তবে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই ভিত্তিহীন অভিযোগ, অর্ধসত্য কিংবা একটি তথ্যের সুবিধাজনক অংশটুকু তুলে ধরে পুরো বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা সাময়িকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজের রেকর্ডকে মুছে দিতে পারে না।

আমরা যখন দায়িত্ব চেয়েছিলাম, তখন সদস্যদের কাছে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। বর্তমান কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, এবং মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা করে যাব।

আমরা কখনো দাবি করি না যে আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিখুঁত, কিংবা সবাইকে আমাদের কাজের পদ্ধতির সঙ্গে একমত হতে হবে। আপনারা আমাদের সঙ্গে দ্বিমত করতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন, আরও ভালো পথ দেখাতে পারেন আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এটুকু বিশ্বাস রাখার অনুরোধ করি, আমরা যা করেছি, বাংলাদেশ সোসাইটির ভালো হবে এই বিশ্বাস থেকেই করার চেষ্টা করেছি।

আমাদের কাজে ভুল থাকলে তথ্য দিয়ে দেখিয়ে দিন আমরা সংশোধন করব। ভালো পরামর্শ থাকলে দিন আমরা গ্রহণ করব। কিন্তু অর্ধসত্য দিয়ে পূর্ণ সত্যকে আড়াল করা যায় না, আর অভিযোগ দিয়ে কাজের রেকর্ড মুছে ফেলা যায় না।

আমরা বিতর্কে সময় ব্যয় করতে চাই না। সদস্যদের কাছে যে দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিলাম, সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের অগ্রাধিকার।

শেষ পর্যন্ত আমাদের কথা নয়, আমাদের কাজ, হিসাব ও রেকর্ডই কথা বলবে। আর তার মূল্যায়ন করবেন বাংলাদেশ সোসাইটির সম্মানিত সদস্যরা।

শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক সমাজ,
এতক্ষণ আমরা তথ্য, হিসাব এবং আমাদের অবস্থান আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। তারপরও যখন আমাদের আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও সোসাইটির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কষ্ট হয়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় সাক্ষী আপনারা, বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য এবং আমাদের কমিউনিটি।

আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন পূর্ববর্তী কমিটির কাছ থেকে সোসাইটির অ্যাকাউন্টে পাওয়া অর্থ ছিল মাত্র ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৭৩.৮৯ ডলার। আজ বিভিন্ন কার্যক্রম, সদস্যসেবা ও অনুষ্ঠান পরিচালনার পরও সোসাইটির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় এক মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

আমরা যখন পথচলা শুরু করি, তখন সোসাইটির নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার। আজ সেই সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি প্রায় দ্বিগুণ। আমাদের কাছে এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের অংশগ্রহণ, সম্পৃক্ততা এবং সোসাইটির সঙ্গে কমিউনিটির সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

এখন আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আমাদের সদস্যদের কাছেই কয়েকটি প্রশ্ন রাখতে চাই

যদি আমরা সোসাইটির অর্থের অপব্যবহার করতাম, তাহলে কি এত মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সোসাইটিকে সহযোগিতা করতেন?

যদি সোসাইটির প্রতি মানুষের আস্থা না থাকত, তাহলে কি প্রায় ১৮ হাজার থেকে সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৩৫ হাজারের বেশি হতো?

যদি আমরা কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতাম, মানুষের কাছে না যেতাম এবং সেবা পেঁৗছে দেওয়ার চেষ্টা না করতাম তাহলে কি এত মানুষ বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হতেন?

আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর নিজেরা দিতে চাই না। উত্তরটি আপনারাই দিন। হিসাব দেখুন, কাজ দেখুন, সদস্যদের অংশগ্রহণ দেখুন, তারপর নিজেরাই মূল্যায়ন করুন।

এটাকে আমরা আমাদের একার সফলতা বলি না। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ চেষ্টা করেছে, কিন্তু এই অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী, দাতা এবং পুরো কমিউনিটির সহযোগিতায়। আপনারা আমাদের বিশ্বাস করেছেন, পাশে থেকেছেন এবং সোসাইটিকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করেছেন। এর জন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।

শ্রদ্ধেয় প্রেস ও মিডিয়া প্রতিনিধিবৃন্দ,
আজ আমরা অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে আক্রমণ করা, ছোট করা বা কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে জড়ানো নয়। যাঁরা আমাদের সমালোচনা করছেন, তাঁরাও আমাদেরই আপনজন, আমাদের কমিউনিটির অংশ। মতের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দিন শেষে আমরা সবাই একই কমিউনিটির মানুষ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি আমাদের সবার।

আজকের সংবাদ সম্মেলনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সা¤প্রতিক সময়ে সোসাইটিকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন, অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে, সেগুলোর বিপরীতে আমাদের অবস্থান এবং তথ্য আপনাদের সামনে পরিষ্কার করা যাতে আমাদের সম্মানিত সদস্যরা কোনো ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে না থাকেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি কারও ব্যক্তিগত বা চিরস্থায়ী জায়গা নয়। আজ আমরা দায়িত্বে আছি, আগামীকাল অন্যরা আসবেন। অতীতেও নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি থেকে যাবে। আমাদের কমিউনিটিও থেকে যাবে। তাই এমন কোনো কথা বা কাজ যেন আমরা না করি, যা সাময়িক প্রতিযোগিতার কারণে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পারস্পরিক সম্মান কিংবা কমিউনিটির ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও ঐক্যবদ্ধ একটি বাংলাদেশ সোসাইটি রেখে যাওয়াই আমাদের সবার দায়িত্ব। এখানে কেউ প্রতিপক্ষ হতে পারেন, কিন্তু কেউ পর নয়। আমরা সবাই এক কমিউনিটি, আমরা সবাই বাংলাদেশ সোসাইটি।

Exit mobile version