
ম্যাচের পর কাঁদলেন নেমার। ছবি: রয়টার্স
সন্ধান২৪.কমঃ পরাজয়ের পর মাঠে ব্রাজিলের খেলোয়ারদের একেক জনের অনুভূতি এক এক রকম দেখা গেল। উচ্চস্বরে কেঁদে ফেললেন তাঁদের অনেকে। সেন্টার লাইনে সারি দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রদ্রিগো, পেদ্রো, নেমার, আলেক্স সান্দ্রো, অ্যান্টনি, থিয়াগো সিলভা, ফ্রেডরা।
মার্কুইনোস পেনাল্টি স্পট থেকে তাঁর শটটা পোস্টে লাগার পরেই হতাশায় মাটিতে বসে পড়লেন । মুখ লুকোলেন ঘাসে। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ তখন মাঠের একটি প্রান্তের দিকে দৌড়চ্ছেন। তাঁর পিছনে পিছনে ক্রোয়েশিয়ার বাকি ফুটবলাররা। সে দিকে অবশ্য কারওর নজর ছিল না। চোখ তখন হলুদ জার্সিধারীদের দিকে। সেন্টার লাইনে সারি দাঁড়িয়ে থাকা মুখগুলো দেখলে করুণা হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়ে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেমার, রিচার্লিসন, রদ্রিগোরা।
সেন্টার লাইনে তখন সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে রদ্রিগো, পেদ্রো, নেমার, আলেক্স সান্দ্রো, অ্যান্টনি, থিয়াগো সিলভা, ফ্রেডরা। এক এক জনের অনুভূতি এক এক রকম। তবে প্রত্যেকের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় কারওর বিশ্বাসই হচ্ছে না।
হতাশায় নিমজ্জিত নেমার একা একা বসেছিলেন । কিছু ক্ষণ পরেই ভেঙে পড়লেন কান্নায়। সামলানোই যাচ্ছিল না ব্রাজিলের এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারকে। ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন দানি আলভেস। এ দিন ম্যাচে খেলেননি। ৩৯ বছর বয়স তাঁর। এটাই ছিল শেষ বিশ্বকাপ। দাদা হিসাবে ভাইকে যে ভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার দরকার, সেটাই করলেন। কাঁধে টেনে নিলেন নেমারের মাথা। বুকে-পিঠে হাত বুলিয়ে নানা ভাবে চেষ্টা করলেন নেমারকে শান্ত করার। কিন্তু বৃথাই সেই প্রচেষ্টা। ৩১ বছরের নেমারের কাছেও তো সময় কমে আসছে। কে বলতে পারে এটা তাঁরও শেষ বিশ্বকাপ নয়। কাপ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন মরিয়া হয়েই। আরও এক বার ঠোক্কর খেতে হল শেষ আটে এসে।
হাউ হাউ করে কাঁদছেন মাঠের আর এক প্রান্তে রদ্রিগো। টাইব্রেকারে তাঁর মারা প্রথম শটটাই আটকে গিয়েছে। তাতে আত্মবিশ্বাস আরও তলানিতে চলে যায় ব্রাজিলের। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ উৎসব করার ফাঁকে ছুটে এলেন লুকা মদ্রিচ। দু’জনে একসঙ্গে খেলেন স্পেনের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। রদ্রিগোকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিলেন শেষ বিশ্বকাপ খেলা মদ্রিচও। থামানো যাচ্ছিল না অ্যান্টনি এবং রাফিনহাকেও।