চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদির পর্যটন দূত হওয়ার প্রস্তাব পান লিওনেল মেসি। সে সময় সৌদি রাজতন্ত্রের শাসনে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হওয়া অনেকেই মেসিকে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করার অনুরোধ করেছিলেন। অত্যাচারিতদের আর্তনাদ পৌঁছালো না মেসির কানে। সৌদি সফরে গিয়ে হলেন দেশটির পর্যটন দূত।
ফরাসি লিগ ওয়ানে এখনো পিএসজির দুই ম্যাচ বাকি। তবে শিরোপা নিশ্চিত হওয়ায় চাপমুক্ত মেসি-এমবাপ্পেরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্যারিসের বাইরে। দুদিন আগেই মাদ্রিদে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গিয়েছে এমবাপ্পেকে। এবার মেসি ক্যামেরাবন্দি হলেন সৌদি আরবে। বিশেষ এক কারণে দেশটি ভ্রমণ করছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। সৌদি আরবের পর্যটন দূত হয়েছেন মেসি। দূত হিসেবে মেসির নাম ঘোষণা করেন দেশটির পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খাতেব।
মঙ্গলবার পিএসজি ও আর্জেন্টিনার সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মেসি
মেসিকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছে সৌদি সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়। গতকালই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। যেখানে দেখা যায়, লোহিত সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পিএসজি তারকা।
মেসিকে দূত ঘোষণা করে সৌদি পর্যটন মন্ত্রী আল-খাতেব লিখেছেন, ‘লিওনেল মেসি ও তার বন্ধুদের সৌদি আরবে স্বাগত জানাই। আপনাকে নিয়ে লোহিত সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ ও আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস জানাতে উদগ্রীব হয়ে আছি। সৌদিতে এটি মেসির প্রথম ভ্রমণ নয়, শেষবারও নয়। আনন্দের সঙ্গে আমি মেসিকে সৌদি পর্যটনের দূত ঘোষণা করছি।’
টেলিগ্রাফের খবর, মেসিকে সৌদি সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল। সেখানে লেখা হয়েছিল, ‘সৌদি প্রশাসন নিজেদের সুনামের জন্য আপনাকে ব্যবহার করতে চায়। সৌদি আরবে গ্রেপ্তার হওয়া বন্দীরা অত্যাচারিত। শাসকগোষ্ঠীর বিপক্ষে কথা বললে কারাবাস করতে হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুদ-ও দেয়া হচ্ছে। আপনি সৌদির প্রস্তাবে সাড়া দিলে, আধুনিক সৌদি আরবে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেসবের প্রতি সম্মতি দিলেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যান করলে সবাই একটি বার্তা পাবেÑ মানবাধিকার গুরুত্বপূর্ণ। ’
