অবশেষে বরিশালের ঘটনায় দুই পক্ষের সমঝোতা

সন্ধান২৪.কম: গতকাল রবিবার অবশেষে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বরিশালে ইউএনওর বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ।  রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনে এক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়। তবে কোন শর্তে সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মেয়রের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকে হয়েছে, এটা অচিরেই মিটে যাবে।

আপোষ-মিমাংসার বৈঠকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ,  বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তাঁরা একসঙ্গে একটি ছবিও তোলেন, যা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বৈঠকে ইউএনও মুনিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, মেয়রের আহ্বানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। মামলা প্রত্যাহারসহ দুই পক্ষই সমঝোতায় একমত হয়েছে।

এর আগে বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মাসুম বিল্লাহর আদালতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার আবেদন করে সিটি করপোরেশন। আদালত অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা দুটির মধ্যে একটির আবেদন করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার এবং অন্যটি সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন। দুটি মামলায়ই ইউএনওকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউএনওর বাসভবনে হামলার অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ইউএনও ও পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। সেই দুই মামলায়ই বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়। একই ঘটনায় সিটি করপোরেশন ও আওয়ামী লীগের নেতারাও থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তখন ওসি তাঁদের মামলা নেননি।

 

 

Exit mobile version