সন্ধান২৪.কম : শিশু অপহরণকারী নাজমা আক্তার লুপা তালুকদারের বাবা ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার। কিন্তু আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলে লুপা । যার ফলে গৃহকর্মী ধর্ষণ ও শিশু সন্তানসহ হত্যার মামলায় তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও মামলাটি ‘রাজনৈতিক বিবেচনার’ তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হন লুপা।
এখন ফায়দা লোটার জন্য পুরো পরিবারই হয়ে গেছে ‘রাজনৈতিক মামলার শিকার আওয়ামী লীগ পরিবার’। মাঝে মাঝে তিনি সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ে দেন-দরবার, দতবীর করে অর্থ লুটে নিতেন । তাঁদের ধারণা, গ্রামের স্কুলের এসএসসি পাস এই নারীর ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা। চাকরি, বদলি বা ঠিকাদারি কাজ—সবই তদবিরে পাইয়ে দিতেন লুপা। বিনিময়ে হাতিয়ে নিতেন টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় ফুল বিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ‘পরিচয় প্রতারক’ লুপার এমন নানা অপকর্মের তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তকারী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, লুপা পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে সাংবাদিক পরিচয়ে তদবির বাণিজ্য ও প্রতারণা করে যাচ্ছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, শিশু অপহরণকারী লুপার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তে এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, ফেসবুকের প্রফাইলে লুপা নিজেকে অগ্নি টিভির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, আওয়ামী পেশাজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র রিপোর্টার নবচেতনা, সিনিয়র রিপোর্টার ও সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোহনা টিভি, ডিরেক্টর শীর্ষ টিভি, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাপ্তাহিক শীর্ষ সমাচার এবং বাংলাদেশ কবি পরিষদের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি মোহনা টিভিতে একবার চাকরি করেছেন বলে একটি বিজনেস কার্ড দেখিয়েছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট ক্ষমতায় এলে গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে লুপা নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রচার শুরু করেন। লুপাকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কথা অস্বীকার করে গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি হারুন অর রশীদ গত শুক্রবার গলাচিপা থানায় একটি জিডি করেন। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা লুপাকে প্রত্যয়নপত্র দিইনি। সে প্রতারণা করে থাকতে পারে। গলাচিপায় স্বাধীনতাবিরোধী দু-তিনটি পরিবারের মধ্যে তাদের পরিবার একটি।’


