সন্ধান২৪.কম : জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদের মতই আবারও যুক্তরাষ্ট্র দুই কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুতে ফূঁসে উঠেছে। প্রতিবাদ- বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি স্টেটের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে।
মিনিয়াপোলিসের পরে এ বার উইসকনসিন প্রদেশের কেনোশা শহর। ফের পুলিশি বর্বরতার শিকার দুই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। মিনিয়াপোলিসের প্রকাশ্য রাস্তায় জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁকে মেরেই ফেলেছিল এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। রবিবার কেনোশায় জেকব ব্লেক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে পিছন থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে পর পর সাতটা গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো একজন।

গত কাল অস্ত্রোপচারের পরে ছেলের অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন জেকবের বাবা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বিক্ষোভে ফের উত্তাল মার্কিন মুলুক। চাপ বাড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হলেও আন্দোলনকারীরা তা অমান্য করেই আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এরইমধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারী ও গ্যাস স্টেশনের নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হলে সেখান থেকেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।
গত রোববার থেকে চলমান আন্দোলনটি থামাতে তখন থেকেই শহরটিতে কারফিউ জারি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১২ টার একটু আগে ওই গুলির ঘটনা ঘটে। সেসময় একাধিক গুলি ছোড়া হয়। ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিতে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর হলেও তার বাঁচার বিষয়ে আশাবাদী চিকিৎসকরা। তবে ঘটনার পরেই সেখানকার একটি ফুটেজ ছড়িয়ে পরে অনলাইনে।
এতে দেখা যায়, এসইউভি-র দিকে হেঁটে আসছিলেন তিনি। পরনে সাদা হাতকাটা গেঞ্জি আর কালো হাফ প্যান্ট। পিছন-পিছন দুই পুলিশ অফিসার। হাতে পিস্তল। এক সময় জেকবের গেঞ্জি ধরে টানতে শুরু করল এক অফিসার। কোনও বাধা দেওয়া চেষ্টা করেননি জেকব। তার পর তিনি ড্রাইভিং সিটের দিকে গাড়ির দরজা খুলতেই শুরু হল গুলিবৃষ্টি। ভিডিয়োতে অন্তত সাতটি গুলির শব্দ পাওয়া গিয়েছে। তবে গুলি এক জনই চালিয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনার প্রতিবাদে মুহূর্তে জড়ো হয়ে যাওয়া ভিড় মারমুখী হয়ে ওঠে। তাঁদের ছোড়া ইট ও বোতল-বোমায় এক পুলিশ অফিসার আহত হন।


