সন্ধান২৪.কমঃ দুবাইয়ের প্রিন্সেস লতিফার ‘বন্দিত্ব’ নিয়ে সারা বিশ্বে নানা প্রশ্নের র্সৃষ্টি হয়েছে, সেই সাথে দুবাইয়ের নির্মম শাসন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তার মেয়েকে আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘও এবার এ বিষয়ে তদন্তে নামছে। ওই রাজকুমারীর ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। খবর বিবিসির।

বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন হলেন লতিফার পিতা শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম । তিনি দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করে থাকেন, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের শাসনব্যবস্থায় ভিন্নমতের প্রতি কোন সহনশীলতা নেই এবং বিচার ব্যবস্থাও নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক। এমন অবস্থায় নতুন জীবনের আশায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন লতিফা। পরে বন্ধুদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। বলেছিলেন যে তাকে “জিম্মি” করে রাখা হয়েছে এবং তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানকে ওই ফুটেজ সরবরাহ করেন রাজকুমারী লতিফা আল মাকতুমের বন্ধুরা। সেখানে রাজকুমারী বলেন, তিনি নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত মহাসাগর থেকে কমান্ডোরা তাকে অচেতন করে আবার বন্দিশালায় নিয়ে আসে। তখন থেকে তিনি সেখানেই আছেন। বাথরুম থেকে বন্ধুদের কাছে গোপনে ভিডিও পাঠিয়ে তিনি তার বন্দিদশার কথা জানিয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করে সে গোপন ভিডিও আসাও বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন লতিফার বন্ধুরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ তেকে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এবার সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন।
হাইকমিশনারের কার্যালয় লতিফার ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিচ্ছে। এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, লতিফার ভিডিওগুলো বিশ্লেষণের পর জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিটারি ডিটেনশন-এর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হবে।
দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আগে দাবি করেছিল যে, লতিফা তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে নিরাপদেই রয়েছেন। জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার কমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসনের সঙ্গে ২০১৮ সালে রাজকুমারীর সাথে দেখা করিয়েছিল তার পরিবার। এর নয় দিন পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিনসনের সাথে লতিফার ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছিল যে রাজকুমারী সুস্থ এবং নিরাপদে রয়েছেন। এখন বলছেন যে লতিফার পরিবার তাকে “ভয়াবহভাবে ধোঁকা দিয়েছিল।” রবিনসন প্যানোরামা অনুষ্ঠানে বলেন, তাকে এর আগে বলা হয় যে লতিফার বাইপোলার ডিসঅর্ডার নামে মানসিক রোগ রয়েছে, যা আসলে তার ছিল না।
২০১৯ সালে দুবাইয়ের ক্ষমতাসীন পরিবারের উত্তেজনার বিষয়টি ইংল্যান্ডের হাইকোর্টের সামনে উন্মোচিত হয়, যখন শাসক শেখ মোহাম্মদের স্ত্রী ও লতিফার সৎ মা প্রিন্সেস হায়া তার দুই সন্তান নিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আসেন। তিনি নিজেদের সুরক্ষা ও নিপীড়িত না হওয়ার অধিকার চেয়ে শেখের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন।
গত বছর হাইকোর্ট বেশ কয়েকটি রায় দেয়, যেখানে বলা হয় যে শেখ মোহাম্মদ ২০০২ এবং ২০১৮ সালে লতিফাকে জোর করে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ এবং পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া ২০০০ সালে তার বোন রাজকুমারী শামসাকেও যুক্তরাজ্য থেকে বেআইনিভাবে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনিও পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।