সন্ধান২৪.কমঃ বস্টনে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সৈয়দ আরিফ ফয়সালের মৃত্যুর স্বচ্ছ তদন্ত হবে বলে আশ্বস্ত করেছে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।
সোমবার দূতাবাসের মুখপাত্র জেফ রাইডেনুরের সই করা বিবৃতিতে এই আশ্বাসবাণীর পাশাপাশি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সৈয়দ ফয়সালের পরিবারের গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তে আমাদের সমর্থন রয়েছে।”
গত বুধবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের কেমব্রিজে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের শিক্ষার্থী ফয়সাল। সেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করা হয় ঢাকায়। আমেরিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধনে শ খানেক মানুষ অংশ নেন।
এদিকে বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কেমব্রিজ সিটি হল প্রাঙ্গণে হয় প্রতিবাদ সমাবেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও আরিফের সহপাঠীরা অংশ নেন সেখানে । আরিফের মৃত্যুর প্রতিবাদে বস্টনের কেমব্রিজ শহরে ‘হে কেমব্রিজ, আমরা বাঁচতে চাই’, ‘স্পিক আপ, স্ট্যান্ড আপ’, ‘জাস্টিস ফর ফয়সাল’, ‘স্টপ পুলিশ ব্রুটালিটি’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় ।
পুলিশের গুলিতে যেভাবে নবীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সাল আরিফের মৃত্যু হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না প্রবাসীরা। আরিফের মৃত্যুকে তারা বর্ণনা করছেন ‘পুলিশি হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে।
এদিকে তার এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশের বিচার দাবিতে সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়।
দুপুরে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ইলিন লোবেশার আগমনকে ঘিরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধনে শ খানেক মানুষ অংশ নেন। এতে ‘যুক্তরাষ্ট্রে আজ মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত’, ‘জাস্টিস ফর ফয়সাল’, ‘ইউএসএতে বাংলাদেশি নিহত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুপ কেন?’, ‘স্টপ কন্টিনিউয়াস হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন’ প্রভৃতি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
আর নিজেদের কমিউনিটির সন্তান ফয়সালের এই মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিক্ষোভ করেছেন। বাংলাদেশে তার পরিবারও বিচারের দাবি জানিয়েছে।


