উত্তপ্ত পাকিস্তানের রাজনীতি

আগামি ২৫শে মার্চ অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকেছেন পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আসাদ কাইসার। এমন অবস্থায় ইমরান খানের সরকার এই অনাস্থা প্রস্তাবে জয় পেতে সম্ভাব্য সকল পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু বিরোধীরাও নাছোড়বান্দা। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা জানানো হয়েছে ডনের এক রিপোর্টে।

এতে বলা হয়েছে, সরকার যত চেষ্টাই করুক না কেনো, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এড়ানোর কোনো সুযোগ আর নেই। এখন তাকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে বিরোধীদের ডাকা এই অনাস্থা প্রস্তাবে জয় পেতে হবে। বিরোধীরা যদি ১৭২ ভোট পেতে ব্যর্থ হয় তাহলেই ক্ষমতায় টিকে থাকবেন তিনি। এছাড়া ভোটের আগেই বিরোধীরা যদি এই প্রস্তাব তুলে নেয় তাহলেও বেঁচে যাবেন ইমরান খান। যদিও এমনটি হওয়ার আসলে তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে আর কোনো সুযোগ নেই। স্পিকার হয়তো এই অধিবেশন পিছিয়ে নিতে পারবেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি চলে যাবে আদালতে। আর এভাবেও দেরিতে হলেও অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হতেই হবে ইমরান খানকে। এখন শুধু সংখ্যার হিসাবই তাকে টিকিয়ে রাখতে পারবে, বাকি সব এখন ‘সাইড শো’।

জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের পূর্বে আদালত হয়ে উঠতে পারে একটি যুদ্ধক্ষেত্র। যদি সরকার এবং বিরোধীরা উভয়ই সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে তাহলে কোর্ট হয়তো কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে। এগুলো হচ্ছে, সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দলের প্রধান দলত্যাগী নেতাদের অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন কিনা। এই আইনপ্রনেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে কিনা এবং সেই নিষেধাজ্ঞা আজীবনের জন্য কার্যকরি হবে কিনা। একইসঙ্গে স্পিকার এই অধিবেশন দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের জন্য পিছিয়ে দিতে পারবে কিনা। ধারণা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহেই এ বিষয়গুলো আদালতে উত্থাপন করা হবে। সিদ্ধান্ত জানাতে আদালত কেমন সময় নেবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আরেকটি আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ডন। আগামি ২৭শে মার্চ পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছে সরকারি দল ও বিরোধী দলগুলো। রেড জোনের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে যে, যদি সত্যি সত্যি এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সেখানে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। যখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহিংসতার সৃষ্টি হবে তখন পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। কিন্তু পুলিশ যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হবে সেনাবাহিনীকে। এমন ইঙ্গিত এরইমধ্যে দিয়েছেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ।

ডন জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলোর জন্যে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে তাদের নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এছাড়া তারা কেউ হুমকি বা চাপের মধ্যে রয়েছে কিনা তাও দেখতে হচ্ছে দলগুলোকে। সরকারি বাধার মুখে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ইসলামাবাদে নিয়ে আসাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধীদের জন্য। এই অনাস্থা প্রস্তাবে প্রতিটি ভোটই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উর্ধতন অনেক কর্মকর্তা এরইমধ্যে গোপনে জানিয়েছেন, তাদের এই অনাস্থা প্রস্তাবে জয়ের সম্ভাবনা অনেক কম। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামি ১০ দিনেই পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে।

Exit mobile version