সন্ধান২৪.কমঃ রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামী ১৩ ডিসেম্বর দেশব্যাপী গণমিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আগামী ২৪ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি করা হবে বলেও সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।
উত্তেজনাার মাঝেই শুরু বিএনপির গণসমাবেশ। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শুরু হয় বিরোধী দলের সভা। অপ্রিয় ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী শহর ঢাকাকে। রাস্তায়-রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিরোধী দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে রাজধানী ঢাকায় অঘোষিত বনধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন কর্মী নিহত ও পুলিশ-সহ অর্ধশত কর্মী জখম হন। এরপর থেকেই বাইরের জেলা ও থানা থেকে মানুষের ঢাকায় আসা বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীর অভাবে দূরপাল্লার বাস চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। জরুরী কাজ ব্যতিত রাজধানীবাসীও ঘর থেকে বাইরে বের হননি। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ শনিবার সকাল ১১টায় শুরুর ঘোষণা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থাৎ দশটা বিশ মিনিটে তা শুরু হয়। যদিও দলের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁরা সমাবেশে উপস্থিত হতে পারেননি। পৃথক চারটি থানার মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস-সহ প্রায় পাঁচশো নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকায় চলছে পুলিশের জোর তল্লাশি।

পুলিশের ওপর হামলা ও ভাংচুরের মামলা দায়েরের পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রক্তন সভাপতি আবদুল কাদের জুয়েলকে আটক গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবারের মহাসমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, রাজশাহীর প্রাক্তন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, আবদুল্লা আল নোমান, হাবীব উন নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল-সহ বিএনপির অনেক নেতা সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। এর আগে সকাল থেকে বিএনপির জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সভা মঞ্চে উপস্থিত হন।

এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোলাপবাগ-ধলপুর-সায়দাবাদ রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতা-কর্মী নিহত এবং চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশের সব বিভাগে বিএনপির গণসমাবেশের অংশ হিসেবে আজ শনিবার ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান। আজ সমাবেশ থেকে দশ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গণসমাবেশ কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। সাধারণ মানুষের মনেও ছিল প্রবল শঙ্কা।
আজ শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর রাস্তাঘাট ফাঁকা। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম। পথচারী ও যাত্রীর উপস্থিতিও হাতে গোনা। প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে গতকাল শুক্রবারও ছিল তালা। সড়কে ছিল ব্যারিকেড। এই সড়কের বিভিন্ন অলিগলিতেও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও মোতায়েন পুলিশ। অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেন নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থান নিতে না পারেন, সে জন্য পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাঁরা নিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই এলাকায় সাধারণ মানুষকে আসতে দেওয়া হয়নি। সুুত্র ঃ সংবাদ প্রতিদিন


