উদীচীর (একাংশ) গণহত্যা দিবসে শেখ হাসিনার বিকৃত ছবি নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড়

সন্ধান২৪.কমঃ উদীচী ২৫ মার্চ কালরাত ও গনহত্যা দিবসের সমাবেশে শেখ হাসিনার বিকৃত ছবি ব্যবহার নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ‘ ২৫ মার্চ কালরাত্রী,একাত্তরের শহীদদের স্মরণ’ শীর্ষক এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশটি তোপখানা উদীচীর চত্ত্বরে শুরু হয়। এই সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিকৃত ছবি স্থান পায়। এই ছবিকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য,গণহত্যা দিবস উপলক্ষে উদীচী পাঠাগার,পাঠচক্র ও গবেষণা বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি পোষ্টারে শেখ হাসিনার সাথে হিটলার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, কামরুল হাসানের একটি পোস্টার ,গোলাম আজম ও শেখ হাসিনার ছবি স্থান পায়। আলোর মিছিলে শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করায় ‘ওরা ৭১-এর খুনিদের নরমালাইজ করার মিশনে নামছে’ বলে উদীচীকে নিয়ে অনেকেই মনে করছেন।

এদিকে নিউইয়র্কে উদীচীর শাখা সংগঠনের কিছু কিছু কর্মীর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ( একাংশ ) ২৫ মার্চ কালরাত ও গনহত্যা দিবসের সমাবেশে শেখ হাসিনার বিকৃত ছবি নিয়ে  সোসালমিডিয়ায় একজন মন্তব্য করেন, ‘কোথায় ২৫ মার্চ কালরাত্রি হাজার হাজার সেনা পুলিশ ছাত্র শিক্ষক সাধারণ মানুষ কে হত্যা। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এটার সাথে এসব ব্যানার দিয়ে প্রকৃত ঘটনা কে আড়াল করার প্রয়াস ‘

একজন বলেন,‘উদীচীর যে অংশ উন্নয়নের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ইয়াহিয়া এবং গোলাম আজমের সাথে এক করে দেখে তারা মূর্খ, দেশদ্রোহী এবং ফ্যাসিস্ট। তারা সত্যেন সেনের আদর্শকে কলংকিত করছে।’

আর একজন মন্তব্য করেন,‘২৫-শে মার্চ কাল রাতের কর্মসূচীর সাথে সেখ হাসিনার বিকৃত মুখোশের সম্পর্ক কোথায় এটি আমার বোধগম্য নয়। এই বিকৃত মুখোশ হাতে দাড়িয়ে থাকা মুষটির পরিচয় কি?’

আর একজন বিশিষ্ট্য নাগরিক গণমাধ্যমে বলেন,‘উদীচী কি দায়িত্ব নিয়েছে ২৫ মার্চ,১৯৭১ নর পিশাচদেরকে নরমালাইজ করার ! ধিক উদীচী ।”

এদিকে নিউইয়র্কের উদীচীর একটি শাখার সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ায় নিউইয়র্কের প্রগতীশীল কমিউনিটিতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একজন সাংস্কৃতিক কর্মী বলেন, নিউইয়র্কের কিছু কিছু উদীচীর কর্মী মুখে অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,উদীচীর আদর্শ-নীতির কথা বললেও তারা মনে মনে দারুণ প্রতিক্রিয়াশীল। এরা ৭১-এর খুনীদের মিশন সফল করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

আর একজন সাহিত্যিক মন্তব্য করেন, ‘নিউইয়র্কের উদীচীর নীতি-আদর্শ বলতে কিছুই নেই,তারা সত্যেন সেনের আদর্শকে কলংকিত করছে।’

আর একজন বলেন, নিউইয়র্কের উদীচী জানেই না,তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি ? বাংলাদেশর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেনাকে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উদীচীর জন্ম তা  হয়তো এরা জানেই না। এরা গান-বাজনাকেই প্রধান মনে করে।’

প্রসঙ্গত: ২০২৫ সালে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ২৩তম সম্মেলন শেষে দুটি ভিন্ন কমিটির একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন  সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে ও অন্য পক্ষ জামশেদ আনোয়ার তপন।

Exit mobile version