সন্ধান২৪.কমঃ পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে-মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন। তারা দীর্ঘ দশ বছর ধরে শিকল বন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছে। এদিকে স্বাভাবিক অন্য এক ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। এক মেয়ের বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়িতে আছেন ।
নওগাঁর আত্রাইয়ে এই হতভাগ্য পরিবার বাস করেন । প্রতিবেশিরা মাঝে মধ্যে তাদেরও অসুস্থ্যতার কথা শুনতে পান বলে জানান। অভাবী বৃদ্ধ বাবা-মা সহায় সম্বল হারিয়ে সময় মতো খেতে দিতে পারেন না অসুস্থ সন্তানদের। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে শিকলে বন্দি করে রেখেছে তাদের।
বৃদ্ধ লবা প্রামানিক এর কপালে এখনও জোটেনি বয়স্ক ভাতা। লবার স্ত্রী রাইজান মানুষের বাড়িতে কাজ করে কখনো চেয়ে চিন্তে স্বামী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। সরকারি সহায়তা বলতে শুধুমাত্র ১০ টাকা কেজি দরে চাল ক্রয়ের কার্ড আছে তাদের। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পড়ে বাঁচতে এবং অসুস্থ সন্তানদের চিকিৎসা করাতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে আকুতি জানান অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি।
বাবা লবা প্রামানিক জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে রেখেছিলাম। কিছুদিন পর সেখান থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন আমি কি করবো, সন্তানদের কি খাওয়াবো কোন কুল কিনারা পাচ্ছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি খেয়ে, না খেয়ে দিন যাপান করছি।


