বিশেষ প্রতিবেদন, সন্ধান : সাংবাদিক হিসেবে কাজ করাটা এমনিতেই কঠিন; আর তিনি যদি হন নারী, তাহলে সঙ্গে যোগ করে নিতে হবে চ্যালেঞ্জের বাড়তি কিছু স্তর। নারীরা সব ধরনের কাজে নিজের যোগ্যতা ও মেধার পরিচয় দিয়ে আসছে বহুদিন ধরেই। অন্যান্য পেশার তুলনায় সাংবাদিকতায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ নিয়েই গত একযুগেরও বেশী সময় থেকে সাংবাদিকতাতেও নারীরা জায়গা করে নিতে শুরু করেছে।
রিকতু প্রসাদ। উত্তরের জেলা গাইবান্ধার একজন নির্ভিক সাংবাদিক। সমাজের অবহেলিত নারীদের প্রতি রয়েছে তার গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। তার লেখনির মধ্যদিয়ে নির্যাতিত নারীদের সহায় হয়ে তাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তিনি একটি ২৪ ঘন্টার সংবাদভিত্তিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি। জেলার নারী সাংবাদিকতার এক উজ্জল মুখ।

যেখানেই বিপদে কোনো নারী, সেখানেই রিকতু। কখনো হাসপাতালে অসহায়-দরিদ্র মানুষের পাশে, কখনো বা শহরে কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামে নির্যাতিতা নারী কিংবা অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ছায়া হয়ে। সমাজের অসহায় নারীদের জন্য ‘মুক্তির দ‚ত’ হিসেবে বিরামহীনভাবে কাজ করছেন তিনি। পারিবারিক কলহে অসহায় নারীদের আইনী সহায়তা প্রদান, বাল্যবিয়ে রোধ, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার তার কন্ঠ। সাংবাদিক পরিচয় ছাড়াও একজন সমাজ ও সংস্কৃতি কর্মী হিসেবেও পরিচিত রিকতু।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পড়া রিকতু প্রসাদ সংবাদের খোঁজে প্রতিমুহ‚র্তেই ঘুরে ফিরছেন শহর, শহরতলী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। সেই ঘোরাঘুরির মাঝেই ক্যামেরা, বুম আর কলমে তার সাংবাদিক মন তুলে আনে নির্যাতিত মানুষের অসহায়ত্বের ছবি, খুঁজে ফেরে মুক্তির পথ।
মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কিংবা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অসংখ্য প্রতিবাদী কর্মকান্ডে তার ভ‚মিকা বা সাহসিকতা প্রশংসনীয়। আরও ভাল কিছু করার জন্য সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হওয়া তার। আট বোন এক ভাই এর মধ্যে তিনি অষ্টম। বাবা স্বর্গীয় রাম গনেশ প্রসাদ। পিতৃনিবাস শহরের মোমেনান রোডে। বৈবাহিক স‚ত্রে এখন গাইবান্ধা শহরের পার্করোডে রিকতু প্রসাদের বসবাস।
রিকতু প্রসাদ সাংবাদিকতা শুরু করেন ২০১৪ সালে। ওই বছর থেকে তিনি সাপ্তাহিক গাইবান্ধা সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ডিবিসি টেলিভিশনে গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তিনি গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাংস্কৃতিক সংগঠন মোহনাসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন।
রিকতু প্রসাদের স্বামী গীতিকবি, বাচিকশিল্পী অমিতাভ দাশ হিমুন দেশ টিভি ও কালের কণ্ঠের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। একমাত্র মেয়ে মেঘলীনা দ্যুতি ইতোমধ্যে কবিতা আবৃত্তি ও একক অভিনয়ে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রবীণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু বলেন, শিশুকাল থেকে রিকতুকে চিনি। তার মানবিক চেতনা ও ম‚ল্যবোধ নি:সন্দেহে অগ্রগণ্য। প্রতিটি ঘটনায় তিনি যেভাবে সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে সংবাদ কাভার করেন তা কারো দৃষ্টি এড়িয়ে যায়না। সাহসী এই নারী সাংবাদিক আগামী দিনে এই পেশায় আরও ভাল করবেন বলে আশা করেন তিনি।
রিকতু বলেন, নারীরাও সাংবাদিকতায় চ্যালেঞ্জ নিতে পারে। প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক পরিমন্ডলের সহযোগিতা। সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা, এটা সত্যি। যেখানে খুবই কম সংখ্যক নারী নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন। স্বামী-সন্তান ও সংসার সামলিয়ে এই পেশায় কাজ করা অনেক কঠিন। তারপরও ঝুঁকিপ‚র্ণ এই পেশায় আরও অনেক শিক্ষিত নারী এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন রিকতু।


