সন্ধান২৪.কমঃ পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে পল্লবী এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে । সাবেক এই সংসদ সদস্য পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে আছেন ।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু সাহিনুদ্দীন নয়, গত ১৫ বছরে ওই এলাকায় যে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে তার বেশ কয়েকটির সঙ্গেই আওয়ালের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সাহিনুদ্দীন নয়, গত ১৫ বছরে ওই এলাকায় জমি-জমার দখল নিয়ে বিরোধে অন্তত ৭ জন খুন হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৬ মে পল্লবীর ১২ নম্বর সেক্টরের ডি-ব্লকে ৩১ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে একটি গ্যারেজে স্থানীয় জয়নুদ্দিনের ছেলে সাহিনুদ্দীনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালের ১৪ মে বুড়িরটেকে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় বঙ্গবন্ধু কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র চঞ্চলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর কয়েকদিন পরই ৮ জুলাই মোহাম্মদপুর থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের টেকেরবাড়ির সামাদ বক্সের ছেলে মমিন বক্সকে। চার দিন পর কালশী ব্রিজ থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। এরপর খুন হয় পাগলা খোকন ও ডি-ব্লকের মিন্টু। গৃহায়ন প্রকল্পের মধ্যে মাছের খামারেই পাওয়া যায় পাগলা খোকনের লাশ। ২০১৪ সালে কালাপানির মুসা খুন হয়। এর আগে ডিওএইচএস সড়কে খুন হয় পাকিস্তানি মোহাম্মদ আলী। ২০০৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সিরামিকের পেছনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আব্বাস নামে এক যুবককে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটি যোগসূত্র রয়েছে। খুনের বদলা হিসেবে এখানে পাল্টা খুন হয়েছে আরেকজন।

এদিকে মাত্র একবার এমপিও হলে আউয়ালের ঘনিষ্ঠ সহকারীদের অনেকেই এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। এলাকায় এখন তার সহকারীদের নিয়েই আলোচনা চলছে।
তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়ালের সহকারী ফরিদ আহম্মেদ বাঙ্গালী ও শেখ মিজানুর রহমান অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎসহ তাদের নামে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তারা টি-আর, কাবিখা, কাবিটা, ৪০ দিনের কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, গভীর নলকূপ দেওয়ার কথা বলে এবং প্রাইমারি স্কুলের নৈশ প্রহরী নিয়োগ ও মানুষের সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে হয়েছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক।
এমএ আউয়াল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে রামগঞ্জ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত হয়েই তার একান্ত সহকারী হিসেবে ফরিদ আহম্মেদ বাঙ্গালী, শেখ মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেন। আউয়াল সহকারী পরিচয় দিয়ে টি-আর, কাবিখা, কাবিটা, ৪০ দিনের কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, গভীর নলকূপ, প্রাইমারি স্কুলের নৈশ প্রহরী নিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
চণ্ডিপুরের মোরশেদ, দরবেশপুরের আবু তাহের, লামচরের বাচ্চু অভিযোগ করেন, আউয়াল ক্ষমতা ছাড়ার ৬ মাস আগে তার সহকারীরা সাড়ে ৩ শত হতদরিদ্রকে সরকারি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে প্রতি ঘরে ১ লাখ টাকা করে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচনে আউয়াল মনোনয়ন না পাওয়ায় ঘর তো দূরের কথা আসল টাকা কেউ ফেরত পায়নি। এমনকি তারা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা বলে ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
আউয়ালের একান্ত সহকারী সচিবের চাকরিতে যোগ দিয়ে ফরিদ আহম্মেদ বাঙ্গালী ঢাকার নাখালপাড়ায় দুটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, চট্টগ্রামে দুটি আবাসিক হোটেল, সিপি (ফাইভ স্টার) দুটি শাখা, স্টুডিওসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন। আরেক সহকারী শেখ মিজান পৌর শহরের সোনাপুর বাজারে করেছেন বিলাস বহুল বাড়িসহ অনেক সম্পদ।


