সন্ধান২৪.কম : হর্স ক্র্যাব এক ধরনের সামুদ্রিক কাঁকড়া। প্রধানত আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলের অগভীর জলে এরা বাস করে। ঘোড়ার খুরের আকৃতি বলে এদের নাম ‘হর্স ক্র্যাব ‘।এরা অত্যন্ত মূল্যবান প্রাণী। রক্তের জন্যই এরা মানুষের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক গ্যালন রক্তের দাম প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার।

এরা বাস করে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনের সাগর উপকূলেও । এশীয় ও আটলান্টিক উপকূলের হর্সশু কাঁকড়ার আকৃতিতে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। হর্স কাঁকড়া আনুমানিক ৩০ কোটি বছর ধরে প্রায় বিবর্তনহীনভাবে পৃথিবীতে বাস করছে। দীর্ঘদিন বিবর্তনহীন থাকার কারণে এদের জীবিত জীবাশ্মও বলা হয়।
মানুষ এ পর্যন্ত যত জীবাণুরোধী ভ্যাক্সিন বা টিকার গবেষণা ও উৎপাদন করেছে, এর জন্য প্রয়োজন হয়েছে হর্সশু ক্র্যাবের রক্ত। মানব শরীরে কৃত্রিম হাঁটু ও কোমর-সন্ধি স্থাপন করার সময়ও হর্সশু ক্র্যাবের রক্ত দিয়ে সেগুলো স্টেরিলাইজড বা জীবাণুমুক্ত করে নেয়া হয়। এ কাঁকড়ার দশটি চোখ।
কপার বা তামার উপস্থিতি বেশি হওয়ায় এদের রক্তের রং নীলচে। টিকা বা ইঞ্জেকশন উৎপাদনকালে শতভাগ জীবাণুমুক্ত হতে হয়। অণু পরিমাণ ‘গ্র্যাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া’ থাকলেও তা গ্রহণকারীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ কাঁকড়ার এক বিন্দু রক্ত দিয়েও পরীক্ষা করে নেয়া যায় টিকা বা ইঞ্জেকশনের তরল নির্বীজ অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ামুক্ত কিনা।
কাঁকড়াগুলো মেরে না ফেলে ল্যাবে বিশেষ পদ্ধতিতে ৩০% রক্ত বের করে নেয়া হয়। হৃৎপিণ্ডের কাছের একটি ধমনিপথে এ রক্ত বা ফ্লুইড টেনে নেয়া হয়। তারপর আবার এদের ছেড়ে দেয়া হয় যথাস্থানে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এ পদ্ধতিকে বলা হয় মিল্কিং।
পরিবেশবাদীরা এ পদ্ধতিকে নির্মম এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষণে হানিকর মনে করছেন। তারা দেখেছেন, রক্তগ্রহণের পর ছেড়ে দেয়া কাঁকড়াগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ মারা যায়। যেগুলো বাঁচে তাদের বংশবিস্তার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
বর্তমানে দেশে দেশে কোভিড ১৯-এর টিকা আবিষ্কারের যে গবেষণা চলছে তাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে হর্সশু কাঁকড়ার মূল্যবান নীল রক্ত। এ কাঁকড়াটিকে শিকারিরা মাছের টোপ হিসেবেও ব্যবহার করে। এশীয় দেশগুলোতে এ কাঁকড়া খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তাই কাঁকড়াটি এখন বিলুপ্তির হুমকির মুখে।