এখন হাজার কোটি টাকা,হেলিপ্যাডসহ প্রাসাদ! এই শাহাদাতই বালিশকাণ্ডের নায়ক

বিএনপি এমপির ড্রাইভার ছিলেন! আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ভোল পাল্টায়

সন্ধান২৪.কম : ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার হয়ে যান । তার আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিএনপি সমর্থিত এমপির ব্যক্তিগত গাড়িও চালিয়েছেন তিনি। আর ওই এমপির বদৌলতে হয়েছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। 

 অথচ এই শাহাদাতই  কৃষকের ১০ বস্তা পেঁয়াজ চুরির অভিযোগে সালিসি বৈঠক করে গ্রামের লোকজন তাঁকে পিটুনি দিয়েছিল।  ১০ বছরের ব্যবধানে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। গ্রামে টিনের ঘরের পরিবর্তে এখন হেলিপ্যাডসহ আলিশান বাড়ি। পাশাপাশি পাবনা সদর ও ঢাকার মিরপুরেও রয়েছে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ বিপুল পরিমাণ জমি। এই ব্যক্তিই হচ্ছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক ভবন নির্মাণের ঠিকাদার শাহাদাত হোসেন, যাঁকে সারা দেশের মানুষ এখন চেনে বালিশকাণ্ডের হোতা হিসেবে। শাহাদাত কারাগারে থেকেও নিজের সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নামে বাগিয়ে নিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ৮৭ কোটি টাকার কাজ।

পাবনার গ্রামের বাড়ি

পাবনা শহরের রাধানগর মহল্লায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে কয়েক শ গজ দূরে শহরের সবচেয়ে দামি এলাকায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকায় কিনেছেন ১৯ কাঠা জমি। সেই জমিতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন ২০১৭ সালে। এই বাড়ির ছাদের ওপরেও আছে হেলিপ্যাড, আছে নান্দনিক সুইমিং পুলসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।

 ২০১৮ সালে পাবনার মানিকহাট ইউনিয়নে  পৈতৃক জমিতে আট কোটি টাকায় হেলিপ্যাডসহ নির্মাণ করেছেন আলিশান বাড়ি। ওই বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরেই কিনেছেন ৩০ বিঘা জমি। একই গ্রামে কিনে ও দখলবাজি করে ৫৫ বিঘা জমির ওপর আটটি মাছের খামার করেছেন। জমি কেনা এবং মাছের খামারে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি।  এ ছাড়া ঢাকার মিরপুরে বিআরটিএর কার্যালয়ের পেছনে আছে একটি ছয়তলা ও একটি ১০ তলা অ্যাপার্টমেন্ট। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আরো একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়িসহ উত্তরা, গাজীপুর, সাভারেও রয়েছে কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদ।

একসময় উলাট-সুজানগর সড়কে সিএনজিচালক ছিলেন পাবনার  উলাট গ্রামের রমজান শেখের ছেলে শাহাদাত হোসেন। । ২০০০ সালের দিকে মানিকহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিউল আলমের বাবার ক্ষেত থেকে ১০ বস্তা পেঁয়াজ চুরি করতে গিয়ে ধরাও পড়েছিলেন শাহাদাত। শফিউল আলম এ প্রসঙ্গে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন সেটা অনেক আগের ঘটনা, চুরির পর তাঁর মামার উপস্থিতিতে বিচার হয়েছিল।’ 

শাহাদাত ২০০১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপি সেলিম রেজা হাবিবের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তাঁর গাড়িও চালান। সেলিম রেজা হাবিব বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর শাহাদাত আমার সঙ্গেই ছিল। সুজানগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ আসার পর আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। এখন তো শুনি ঠিকাদারি করে কয়েক শ কোটি টাকার মালিকও বনে গেছে।’ কালের কন্ঠ

Exit mobile version