সন্ধান২৪.কম : গত ১৭ নভেম্বর থেকে মিছিল নিয়ে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা ইপিজেড এর সামনে এ ওয়ানের কয়েকশ শ্রমিক । তাদের পাওনা ১০ মাসের বকেয়া বেতন দেওয়া না পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না বলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন। এছাড়াও গত ২ নভেম্বর শ্রমিকদের উপর যে হামলা হয়েছিল তার বিচারও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজকে একটু পরেই বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা)’র সাথে শ্রমিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এসব দাবিতে গতকাল (১৭ নভেম্বর) মঙ্গলবার থেকে তারা আশুলিয়া প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েছে। গতকাল রাতেও তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এ ওয়ান বিডি কারখানার মালিক আলিসান্ড্রা ফেরী। যিনি একজন ইতালীয় নাগরিক। এ কারখানার ১১’শ শ্রমিক গত ১০ মাসের বেতন না পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিনানিপাত করছে। এতদিনেও কারখানা বা বেপজা কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকার কোন মহলই বেতন প্রদান বিষয় দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। একে অপরের দিকে দায়িত্ব ঠেলে দিলেও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় শ্র্রমিকরা পেটের দায়ে দিশেহারা। বার বার আশ্বাস দিয়েও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ হয়নি।

তারা আরো বলেন, একদিকে বেতন বন্ধ গত জানুয়ারি থেকে। অন্যদিকে শ্রমিকদের রুটি রুজির জায়গা কারখানা ও মার্চ থেকে কারখানাও বন্ধ। শ্রমিকরা কাজ এবং বেতন না পেয়ে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেকে আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় কিংবা অন্যের বাসায় আছেন। অনেকে দুরদুরান্ত গ্রাম থেকে এসে আন্দোলনে এসে অংশ নিচ্ছে। অনেকে আশুলিয়া এলাকায় ঋণগ্রস্থ হয়ে পরিবার পরিজন নিযে চরম সঙ্কটের মধ্যে পতিত হয়েছে। করোনাকালের সঙ্কটকালে শ্রমিকদের আয় রোজগার এর বিকল্প পথও তেমন খোলা নেই।
তারা আরো জানান, বেতন শ্রমিকের আইনী অধিকার। অথচ ১০ মাস হয়রানী করা হচ্ছে শ্রমিকদের। শ্রমিকরা দারে দারে গিয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছে না। মাননীয় শ্রম মন্ত্রী, বেপজা প্রধান , ইটালীয় এম্বাসেডর প্রত্যেকেই পাওনা পরিশোধে সমাধানের উদ্যোগ দেয়ার কথা বলেও কথা রাখেনি। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে মালিক পক্ষ, বেপজা এবং সরকার চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবার পরও পাওনা না পাওয়া একটি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত হিসাবে অভিহিত করেন তারা।
তারা বলেন, দফায় দফায় কথা দিয়ে অবশেষে ২ নভেম্বর কারখানা নিলামে বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। ব্যাংকের স্থগিতাদেশে নিলাম বন্ধ হয়। তারা বলেন, নির্ধারিত তারিখে পাওনা বিষয় জানতে চাইলে বেপজা সিকিউরিটি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শ্রমিকের উপর যে নির্মম নির্যাতন চালায় তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। শ্রমিকদের কাজ এবং পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো দফায় দফায় নেমে আসছে হামলা নির্যাতন। ঢাকা ব্যাংক এবং এ ওয়ানের আর্থিক জটিলতা ও লোনের দায় কেন শ্রমিকদের গ্রহণ করতে হবে এ বিষয়ে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন। তারা বেপজার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনতিবিলম্বে এই অচল অবস্থা নিরসনে উদ্যোগ নেবার আহবান জানান।
প্রয়োজনে আশূলিয়া প্রেসক্লাবে তারা অবস্থান নেবেন যদি পাওনা পরিশোধ না হয়। গণতান্ত্রিক ও শ্রমিক অধিকারের পক্ষের শক্তিকে সাথে নিয়ে এমনভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে যাতে শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোন সুযোগ তৈরী না হয় বলেও শ্রমিকরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


