সন্ধান২৪.কম : মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে ‘বিপর্যয় অনিবার্য’ বলে মন্তব্য করেছেন রানা দাশগুপ্ত।সোমবার বিকেলে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও শিল্পবিরোধী সাম্প্রদায়িকতা গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখে দাঁড়ান’ স্লোগান নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী, চট্টগ্রাম আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, “১৯৭১ সালে হানাদারের এদেশীয় দালালদের আনুষ্ঠানিক পরাজয় হয়েছে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে এই পরাজিত শক্তির রাজনীতিকে নির্মূল করা হয়নি। দীর্ঘ ৫০ বছরে রাজনীতিতে অবস্থান নিয়ে নানা কূটচালে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা তৎপর রয়েছে।

“স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে আজ সেই কাজটি করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত হয়ে, প্রশ্রয় পেয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে-মৌলবাদীতাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দেওয়ার যে স্পর্ধা দেখিয়েছে, তা কোনোভাবেই বাঙালি জাতি মেনে নিতে পারে না।”
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ১৯৯১-৯২, ২০০১-০৬ সালে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের চিত্র তুলে ধরে রামু, কুমিল্লার মুরাদনগরের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সাম্প্রতিক ঘটনার কথাও বলেন।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অনৈক্য বিভাজন তাদের শক্তি যুগিয়েছে। আর পেছনে ফিরে থাকার সুযোগ নেই। চলুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ৭১ এ যারা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম সেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াই হবে। যদি দাঁড়াতে ব্যর্থ হই তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য।”
সমাবেশে কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “ভাষা আন্দোলনের সময় এরাই বলেছিল ভারতীয় চররা ঢুকে বাংলা ভাষার পক্ষে কথা বলছে উর্দুর বিপক্ষে। এরা শহীদ মিনার নির্মাণকে হিন্দুয়ানি আখ্যা দিয়েছিল। এরাই মুক্তিযুদ্ধের সময় দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ভারতের ষড়যন্ত্র বলেছিল। এরা বলেছিল ফটো তোলা হারাম। আজ তাদের ফটো তুলে হজে যেতে হয়।”


