সন্ধান২৪.কমঃ রোববার সকালে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি বড় ভাইকে উদ্দেশ করে আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে জিততে হলে তাকে লাগবে। কাদের মির্জার অভিযোগ, এবার নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার বিরোধিতা করছে।
নোয়াখালীর বসুরহাটের মেয়র নির্বাচনের প্রচারে নেমে নানা কথার মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসা আবদুল কাদের মির্জা এবার তার ভাই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকেও হুঁশিয়ার করলেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা এবার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জ আসনেরই সংসদ সদস্য।
রোববার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পথসভায় তিনি বলেন, “তার (ওবায়দুল কাদের) উপরও আমার ক্ষোভ আছে। এখানে জিততে হলে তার আমাদের লাগবে। সামনে জিততে হলে উনাকেও সতর্ক হতে হবে।
“এত সহজ নয়, কঠিন ব্যাপার। বউ-টউ (স্ত্রী) সামলাতে হবে। আর উনার সঙ্গে যারা হাঁটেন, তারা কার থেকে মাসোহারা পান, তার খোঁজখবর নিতে হবে।”
তার ওই বক্তব্যকে জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির উদাহরণ হিসেবে বিএনপি নেতারা তুলে ধরলে ওবায়দুল কাদের ভাইকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কাদের মির্জা বলেন, “শুনেন, ওবায়দুল কাদের আমার লগে নাই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আমার সাথে নাই। নোয়াখালী আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র পাঠাইছে। ফেনীর আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র পাঠাইছে। কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগ আমার সাথে নাই।”
নোয়াখালীর আঞ্চলিক উচ্চারণে পথসভায় উপস্থিত জনতাকে তিনি প্রশ্ন করেন “আমনেরা কি আঁর লগে থাইকবেননি?”
এই সময় উপস্থিত জনতা ‘হ্যাঁ’ বললে কাদের মির্জা বলেন, “আমনেরা আঁর লগে থাকলে কথা কমু, নয় কইতাম ন। [আপনারা কি আমার সঙ্গে থাকবেন? আপনারা আমার সঙ্গে থাকলে আমি কথা বলল, না হয় বলব না।]
দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এরা আমার সাথে নাই কেউ। বসুরহাটের এরা, আমাদের উপজেলার, এরা ওবায়দুল কাদেররে ডরায়। একরাম চৌধুরীকে (নোয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য) ডরায়। তারপরে ওই যে নিজাম হাজারীরে (ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য) ডরায়। এইটা হলো মূল ঘটনা।”
আওয়ামী লীগের মধ্য থেকে ভোটের প্রচারে ‘বাধা পাচ্ছেন’ বলে অভিযোগ করেন বর্তমান এই মেয়র।
“আমার পোস্টার বিভিন্ন স্থানে ছিঁড়েছে। এটা জামায়াত-বিএনপির কেউ ছিঁড়েনি। ছিঁড়েছে নোয়াখালী, ফেনী থেকে আন্ডুগান্ডুদের অস্ত্র দিয়ে লাগিয়েছে, ওড়া ছিঁড়ছে। কীজন্য ছিঁড়ছে? আমাদের কর্মীদের গরম করার জন্য।
“কালকে যুব মহিলা লীগের এক মহিলা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা মোবাইল ট্র্যাকিং দিয়ে সব তথ্য পেয়েছে, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তথ্য সব পাবার পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি? তাহলে এ মহিলার হাতটা অনেক শক্তিশালী। না হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন?”
আবদুল কাদের মির্জা


