সন্ধান২৪.কম : কোভিড-১৯ এর চেয়েও বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন । এজন্য করোনা ভাইরাস সঙ্কটের মতো জলবায়ু পরিবর্তনকেও একই ধরনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বিশ্বকে – জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইএফআরসি) ।

মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি ঘোষণার সময় থেকে হিসেব করলে ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বে শতাধিক বিপর্যয় ঘটেছে এবং সে সকল বিপর্যয়ের বেশিরভাগ ছিল জলবায়ু সম্পর্কিত। যাতে ৫ কোটিরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৭ নভেম্বর আইএফআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এমনকি মহামারির ভয়াবহ প্রকোপের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসযজ্ঞ বিরতি নিবে না।
আইএফআরসি সেক্রেটারি জেনারেল জগান চাপাগেইন বলেন, কোভিডের অস্তিত্ব এখন অবশ্যই সরাসরি আমাদের পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়দের উপর প্রভাব ফেলছে। ইতোমধ্যে ১৩ লাখের বেশি মানুষ মহামারির ক্ষতির শিকার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব অত্যন্ত মারাত্মক সঙ্কট মোকাবেলা করছে।
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইএফআরসি আশঙ্কা করছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানবজীবন ও পৃথিবীতে আরও উল্লেখযোগ্য মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। খুব শিগগির কোভিড-১৯ এর এক বা একাধিক ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা দেখা দিলেও দুর্ভাগ্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভ্যাকসিন নেই।
বিশ্ব উষ্ণায়নের উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই পৃথিবীতে মানুষের জীবনকে সত্যিকার অর্থে রক্ষার জন্য আরও অনেক বেশি টেকসই ব্যবস্থা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
আইএফআরসি বলেছে যে, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত ঘটনাগুলির ফ্রিকোয়েন্সি ও তীব্রতা ইতোমধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবলমাত্র ২০১৯ সালে, বিশ্ব ৩০৮টি দুর্যোগের কবলে পড়ে । তাদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ জলবাযু বা আবহাওয়া সম্পর্কিত। এসব দুর্যোগে প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আইএফআরসি আরো জানায়, ১৯৬০- এর দশক থেকে জলবায়ু ও আবহাওয়া সম্পর্কিত বিপর্যয়ের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে ও তা ১৯৯০ এর দশক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
আইএফআরসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৬০ সাল থেকে আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত দুর্যোগের ঘটনা নিয়মিত হারে বাড়ছে। গত দশকে আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই দরিদ্র দেশের বাসিন্দা ছিলেন। প্রতিবেদন বলছে, প্রচণ্ড দাবদাহ ও ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আরও গুরুত্ব দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে আইএফআরসি বলেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকাদের রক্ষা করুন।’
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আগামী দশকে ৫০টি উন্নয়নশীল দেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বছরে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। কোভিড-১৯ মোকাবিলার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, তার তুলনায় এই ব্যয় খুবই সামান্য।
ইতিমধ্যে করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লেগেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে এখন পর্যন্ত হওয়া বিনিয়োগের বেশির ভাগই উন্নয়নশীল দেশে যায়নি। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।