সন্ধান২৪.কম : যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট এলাকায় অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) ভেতরে কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহতের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। হাসপাতালের চিকিত্সক অমিয় দাস জানান, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের একটা গাড়িতে তিন কিশোরকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের মৃত অবস্থায় পান চিকিত্সকরা। তাদের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।


যশোর কোতয়ালি থানার এসআই সেকেন্দার আবু জাফর জানান, নিহতরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ছোলিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু পরামানিকের ছেলে নাইম হাসান (১৭), খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা দক্ষিণপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান (১৮) ও বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর গ্রামের নূরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন।
এর মধ্যে নাইম হোসেন ধর্ষণ এবং পারভেজ হত্যা মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অন্তরীণ ছিল। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের ভেতরে সংশোধনের জন্য থাকা কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অতর্কিত সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা খাটের মশারি টাঙানোর লাঠি ও চেয়ারের হাতল ভেঙে মারামারি শুরু করে। এতে অন্তত আট কিশোর আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মুশফিকুর রহমান বলেন, ৩ আগস্ট কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। তখন দুই কিশোর আহত হয়। মারামারি ঠেকাতে গিয়ে কেন্দ্রের প্রধান প্রহরী নুর ইসলাম আহত হন। এরপর দুই পক্ষকে দুটি পৃথক ভবনে তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখা হয়। ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য দুই ভবনের তালা খুলে কিশোরদের বাইরে আনা হয়। তখন অতর্কিত দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে তিন কিশোর মারা যায়। আরও চারজন আহত হয়েছে।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রশিক্ষক মুশফিকুর রহমান জানান, কয়েক দিন আগে কেন্দ্রে শিশুদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। ঐ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার একটু আগে আবার সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে নাইম নামে ১৫ বছরের এক কিশোর এবং রাব্বি (১৮) ও রাসেল হোসেন (১৮) গুরুতর আহত হয়। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


