সন্ধান২৪.কম ডেস্ক ধ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত নিউ ইয়র্কের সভা থেকে ভারতের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিলেন । তিনি বলেন, কোনও হিন্দু যদি ভাবেন মুসলিমদের ভারতে থাকা উচিত নয়, তবে সেই ব্যক্তি হিন্দুই নন। ম্যানহাটনের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ওই সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমি এবং আমার’ ভাবনা থেকে কোনও সমাধান হয় না। সমাধান আসে ‘আমরা এবং আমাদের’ চিন্তাধারা দিয়েই। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের ম্যাডিসন স্কোয়্যারে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বক্তৃতা করেন সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত।

এদিকে ভাগবতের এই কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি। বলেছিলেন, তিনি এই কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না। তবে কর্মসূচি বাতিল করে দেওয়ার এক্তিয়ারও নিউ ইয়র্ক শহর প্রশাসনের নেই বলে জানিয়েছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্কের মেয়র বলেছিলেন, “আমার পরিবার আমাকে ভারত সম্পর্ক যে ধারণা দিয়েছে, যে ধারণা নিয়ে আমি বড় হয়েছি, তা হল— এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের বহুত্ববাদী সমাজ। যে সমাজ ভারতে বসবাসকারী প্রত্যেককে সঙ্গে নিয়ে চলে। সেখানে সমাজ থেকে কাউকে দূরে সরিয়ে রাখার দৃষ্টিভঙ্গিতে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলনের উত্থান দেখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
আরএসএস‘র শতবর্ষ পূর্তি উদ্যাপনে বিদেশ সফর শুরু করেছেন আরএসএস প্রধান। শনিবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে সেই কর্মসূচির প্রথম সভা ছিল। ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনে’ বক্তৃতা করেন ভাগবত। প্রায় এক ঘণ্টার ওই বক্তৃতায় বার বার প্রতিধ্বনিত হয় ভারতীয় সংস্কৃতিতে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা। তাঁর কথায়, “বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য ভারতের মজ্জায় মিশে রয়েছে।” সকলের এটিকে উদ্যাপন করা এবং সম্মান করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

এ অবস্থায় শনিবার নিউ ইয়র্কের সভায় ভাগবতের বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘপ্রধানের বক্তব্য, ভারতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন। তিনি বলেন, “ভারত সবাইকে আশ্রয় দিয়েছে— এটাই ভারতের ঐতিহ্য। যাঁরা বিশ্বের কোথাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাননি, তাঁরা ভারতে এসেছেন। এখানে তাঁরা নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “মুসলিম ভাইয়েরা আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন— ‘আপনারা একটি হিন্দু সংগঠন, তাহলে আমাদের মুসলিমদের কী হবে? আপনারা কি আমাদের তাড়িয়ে দেবেন?’ আমি বলেছিলাম, না, হিন্দুত্ব তা নয়। কোনও হিন্দু যদি মনে করেন যে ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তবে তিনি আর হিন্দু থাকেন না।”
নিউ ইয়র্কে সংঘপ্রধানের বার্তার পর মুখ খুলেছেন রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বল। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “বিদেশে গিয়ে ভাল ভাল কথা বলছেন। কিন্তু দেশের মাটিতে চুপ। শুধু মুখে বলে কিছু হয় না, কাজই কথা বলে।” আবার শিন্দে সেনার সাংসদ শাইনা এনসি স্বাগত জানিয়েছেন সংঘপ্রধানের বার্তাকে। তাঁর মতে, ভাগবতের বার্তায় ‘সকলের প্রতি ন্যায়বিচারের’ কথা তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু কাউকে ‘তোষণের কথা বলা হয়নি’।


