সন্ধান২৪.কম ঃ বুধবার আমেরিকার কংগ্রেসের ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালালো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা। কয়েক হাজার সমর্থক ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান তুলে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে । ঘটনাস্থলে পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে অনেকে । সন্ধা ৬ থেকে পুরো এলাকা কার্ফু জারী করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো আমেরিকা উত্তাল হয়ে উঠেছে।

আমেরিকার ভাবী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেশবাসীর উদ্দেশে তাৎক্ষণিক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের ঘটনা আমেরিকার সত্যিকারের ছবি হতে পারে না। কিছু উগ্রপন্থা মনোভাবাপন্ন মানুষ এ কাজ করেছেন। এটা বিশৃঙ্খলা। এটা প্ররোচনা। আমাদের লক্ষ্য আইন মেনে চলা। একে অপরকে শ্রদ্ধ করা। এটাই গণতন্ত্রের দস্তুর হওয়া উচিত।”
এদিকে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলা চালানোর এই নজিরবিহীন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্ব জুড়ে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টুইট করে বলেছেন, ‘আমেরিকা কংগ্রেসের ইতিহাসে এটা একটা লজ্জাজনক ঘটনা।’ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক এবং ঘৃণ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে নির্বাচনের জয়ের সমর্থন পেতে চলেছেন জো বাইডেন। কিন্তু তার আগেই উত্তাল হয়ে উঠে ওয়াশিংটন ডিসি।
মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ক্যাপিটল বিল্ডিং চত্বর। ট্রাম্পের পক্ষে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় পুলিশের। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েক জনের আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। গ্রেফতার হয়েছেন বেশ কয়েক জন সমর্থকও।
পুলিশ সূত্রের খবর, ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ এবং সেনেটের বৈঠক চলছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত সিলমোহরের বিষয়টি নিয়ে। তখনই কয়েক হাজার ট্রাম্প-সমর্থক ক্যাপিটল বিল্ডিং ঘিরে ফেলেন। এই ঘটনার পরই গোটা ক্যাপিটল বিল্ডিং চত্বর নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়।
গত বুধবার ট্রাম্প এক জনসভায় হুমকি দিয়েছিলেন, “আমরা পিছু হটব না।” তার পরই ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। তার পর পরই ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে খবর। যদিও হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্প টুইট করে সমর্থকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন সময় অভিযোগ তুলে আসছেন ভোট চুরি করা হয়েছে । এ নিয়ে বেশ কয়েকটি স্টেটসে মামলাও করেন তিনি । গত ৩ নভেম্বর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি ইলেক্টোরাল ভোট, সেখানে ট্রাম্পের ঝুলিতে গিয়েছে ২৩২টি।