ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও অধীনস্থ ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) আন্তরিক। আর সে কারণেই গত মঙ্গলবারই সিসিডিএম এর চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদও আলোচনায় বসেছিলেন কোয়াবের সঙ্গে। বিসিবি ও সিসিডিএম বাস্তবিকই উপলদ্ধি করতে পেরেছেন যে, প্রিমিয়ার লিগ শুরু করতে না পারলে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
আর এই বিষয়টি নিয়ে বোর্ড পারিচালক ও সিসিডিএমের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা কোয়াব এবং বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা প্রিমিয়ার লিগ কবে শুরু করা যায়, সেটি নিয়ে আলাপ করেছি। তবে এই মুহূর্তে কোনো তারিখ চূড়ান্ত না হলেও ক্লাবগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই খেলা শুরু হওয়ার বিষয়টি। সব ক্লাব ১৫ দিনের নোটিশে লিগ শুরুর প্রস্তুতি রাখবে।’
সিসিডিএম চেয়ারম্যানের কথায় ক্রিকেটারদের মাঝে একটা প্রশান্তি চলে এসেছিল যে, এবার তাহলে ক্রিকেটারদের একটা গতি হবে। করোনার কারণে এক রাউন্ড হয়ে প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেটারদের অনেকেই চাহিদামাফিক পারিশ্রমিক না পেয়ে নিদারুণ অর্থকষ্টে রয়েছেন। লিগ শুরু হওয়ায় তারা নিশ্চয়ই পারিশ্রমিক পাবে, এবার বুঝি তাদের একটা গতি হবে।
কেউ কেউ এমন ভাবলেও, আসলে কি তাই হবে? ক্লাবগুলো কি সত্যি সত্যি কোয়াবের আহ্বানে, বিসিবির মধ্যস্ততায় পারিশ্রমিকের ৫০ ভাগ দিয়ে দেবে? দিলে সেটা কবে দেবে? এমন অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।
আসলেই কী ক্লাবগুলো কোনো পারিশ্রমিক দেবে ক্রিকেটারদের। দেয়ার এতটুকু সম্ভাবনাও নেই। ক্লাবগুলো বর্তমান অবস্থায় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দেবে না। সত্যিকার অর্থে দেয়ার মতো অবস্থাও নেই। বিষয়টি স্পর্শকাতর, তাই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে রাজি নয় কেউ।
এ প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে অনীহা সবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্লাব কর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রিমিয়ার লিগ নতুন করে শুরু না হলে, ক্লাবগুলোর পক্ষে ৫০ ভাগ পারিশ্রমিক দেওয়া সম্ভব না। এখন যে অর্থনৈতিক অবস্থা, তাতে পারিশ্রমিক দেয়ার মতো সচ্ছল অবস্থা নেই ক্লাবগুলোর- এমন দাবি ক্লাব কর্তাদের।
গণমাধ্যমকে কয়েকজন ক্লাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘৫০ শতাংশ না হলেও দু-একটি ছাড়া বেশিরভাগ ক্লাবই ২০-৩০ শতাংশ অগ্রিম পেমেন্ট করেছে। দল বদলের আগে নতুন ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তির সময় এক-চতুর্থাংশ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে অনেক ক্রিকেটারকেই। আর শীর্ষ তারকাদের প্রায় সবাই গড়পড়তা ৪০-৫০ ভাগ অগ্রিম পেমেন্ট পেয়েছেন।’



