কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু

সন্ধান২৪.কম : মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুই  বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ এর সভাপতি, ও ব্যবসায়ী আবদুল হাই জিয়া হাসপাতালে ভর্তি  হলে সোমবার (৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে  সিটির রিচমন্ডহীলে বসবাসকারী হেনোরা বেগম গত রোববার (৬ ডিসেম্বর) শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । 

নিউইয়র্কে চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ এর সভাপতি ও  ব্যবসায়ী আবদুল হাই জিয়াকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি কর হলে রাত ১১টা ২০ মিনিটে  চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আগের দিন রোববার হার্ট অ্যাটাকের শিকারে আবদুল হাই জিয়া এষ্টোরিয়ার মাউন্ট সানাই হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতলে ভর্তির পর থেকেই তিনি জ্ঞানহীন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা গেছে। 
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান জানান, গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে ব্রæকলীনে চট্টগ্রাম সমিতি ভবনের সামনে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের জানাজায় সমিতির সভাপতি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আবদুল হাই জিয়া। এর দু’দিন পরেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। গত রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাতে বাসায় ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উক্ত জানাজায় অংশগ্রহণকারী আরো কয়েকজন ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়েছেন বলে একই সুত্র জানিয়েছে। তাছাড়া মরহুম শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের পরিবারের কয়েকজন কোভিড আক্রান্ত বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সন্তান আব্দুল হাই জিয়া নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ার ডিটমার্সে সপরিবারের বসবাস করতেন। তার বয়স হবে ৫৬/৫৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও এক কন্য সহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। 

অপর দিকে  সিটির রিচমন্ডহীলে বসবাসকারী কাজী তাইফুর হোসেনের মা হেনোরা বেগম গত রোববার (৬ ডিসেম্বর) শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলো ৬৩ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ২ পুত্র, এক কন্যা আর নাতি-নাতনী সহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। 
মৃত হেনোরা বেগমের ছেলে  কাজী তাইফুর হোসেন বলেন , তিন সপ্তাহ আগে তার পরিবারের সবাই বিশেষ করে তিনি ছাড়াও আর মা, স্ত্রী এবং আমার দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত হই এবং বাসায় অবস্থান করেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই তার মা গুরুতর অসুস্থ অনুভব করেন। চিকিৎসকের ভাষায় বলে- করোনা থেকেই আমার মা রিকোভারী হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। সাথে সাথে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতাল সেন্টারের জরুরী বিভাগে নেয়া হলে সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকগণ মৃত ঘোষণা করেন।
মরহুমা হেনোরা বেগমের নামাজে জানাজা গত ৭ নভেম্বর সোমবার বাদ জোহর জ্যামাইকা দারুল উলুম মসজিদ ও মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়।  জানাজার পর নিউজার্সীর মার্লবরো কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

Exit mobile version