গাইবান্ধায় পাহাড়ে ও সমতলের আদিবাসীদেরকে হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির মধুপুর, দীঘিনালা ও রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কর্তৃক আদিবাসীদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা, ঘরবাড়ি-দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রæত গ্রেফতার ও যথাযথ শাস্তির দাবিতে আদিবাসী-বাঙালি সংহতি সমাবেশ, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ ও জনউদ্যোগ, গাইবান্ধার আয়োজনে শনিবার বিকাল ৪টায় গানাসাস মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহŸায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জনউদ্যোগ জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব তারিক হোসেন মিঠুল, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ ও জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মুরমু, মানবাধিকার কর্মী অঞ্জলী রানী দেবী, সাঁওতাল নেত্রী সুচিত্রা মুর্মু তৃষ্ণা, ভূমি উদ্ধার কমিটির নেতা ময়নুল ইসলাম প্রমুখ।


বক্তারা বলেন, সমতলে ও পাহড়ে আদিবাসীরা বাংলাদেশের সাথে থেকেই স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। বিভিন্ন সময় ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা আদিবাসীদের জমি দখল করছে, তাদের উপর শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করছে। আদিবাসী-বাঙালিসহ সব জাতি, ধর্ম, লিঙ্গের মানুষকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা প্রতিটি ব্যক্তির নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশের সমৃদ্ধময় সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং জাতিগত বৈচিত্র্যময়তার সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সম্প্রীতির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জনগণকে উজ্জীবিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ও সমতলের আদিবাসীদের উপর হামলা, মাজারে হামলা, মন্দিরে হামলা, নারীকে হেনস্তা, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা আমাদেরকে ব্যথিত করে। সারা দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী মানবাধিকার এবং জীবন মানের সার্বিক দিক দিয়ে আজও নানাভাবে বঞ্চিত এবং সে কারণেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর থেকে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে চিহ্নিত। অবিলম্বে পাহাড়ের ও সমতলের আদিবাসীদের প্রতি সকল হত্যার, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটকারী সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের দাবী জানানো হয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাস্ট্রকে নিতে হবে।

Exit mobile version