গাইবান্ধায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায়, যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু কোয়ালিশনের প্রতিবাদ

সন্ধান২৪.কম: মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি কালি মন্দিরের বিভিন্ন দেব-দেবীর সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছে বিবৃতি দিয়েছে হিন্দু কোয়ালিশন, যুক্তরাষ্ট্র।

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেন হিন্দু কোয়ালিশন, যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি দীনেশ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশ স্বাধীন করতে এ দেশের হিন্দুদেরই বেশি অবদান। অথচ বারবার বিভিন্ন সময় এ দেশের কিছু উগ্রপন্থী ও মৌলবাদীরা পরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়তই এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরসহ লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরগঞ্জ  কালি মন্দিরের বিভিন্ন দেব-দেবীর সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে মধ্য দিয়ে আবার তা প্রমান হলো। বারবার ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান তেমন কোনো শাস্তি গ্রহণ না করায় এ দেশের সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

গভীর  রাতে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা (ইন্দারারপাড় পাইকরেরতল) গ্রামের পাথাড়ী কালি মন্দিরে । সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জানান, কে বা কারা দেবতা ও দেবতার বাহনসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা ভাঙচুর করে। পরে মূর্তির ভিতরে থাকা খড়েও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ভেতরের থাকা পূজার উপকরণ ডালা, কুলা, চালুন, সঙ্খ, কাশি, ঘণ্টাসহ অন্যান্য উপকরণও নিয়ে যায়।

এলাকার ফেরদৌস মিয়া জানান,  মঙ্গলবার গভীর রাতে মন্দিরের সামনে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে তারা মন্দিরের দিকে এগিয়ে আসলে একজনকে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে তারা পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আলামতগুলো জব্দ করেছে। মন্দিরের সভাপতি  বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

Exit mobile version