সন্ধান২৪.কম: গাইবান্ধায় অনাথ শিশুদের শীতের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ নামে যুক্তরাষ্ট্র নিউইর্য়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ।

ধারাবাহিক ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের ৩য় দিন গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কমিটির উদ্যোগে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ আদিবাসী ১৬০ জন অনাথ ও অসহায় শিশুদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও আদীবাসী নেতা ফিলিমন বাস্কে, সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাচিক শিল্পী দেবাশীষ দাস দেবু। অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাাপনা ও সমন্বয় করেছেন পরিবেশ আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি ও রাজনীতিক ওয়াজিউর রহমান র্যাফেল।

সহযোগিতায় ছিলেন অধ্যাপক সুজন বম্মর্ণ, সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, আদীবাসী নেতা বার্নাবাস টুডু, পিসিলা মূর্মু , তৃষ্ণা মূর্মু ও গনেশ মূর্মু , যুব ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা কমিটির সভাপতি প্রতীভা ববি, মিজানুর রহমান, দেলোয়ার, ইমদাদুল প্রমুখ।

এ ছাড়াও সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত রমেশ-শ্যামল-মঙল বেসরকারি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শাহ ফাউন্ডেশনের দেয়া শীত বস্ত্র বিতরনকালে সিপিবি ,আদিবাসী ও যুব ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথির বক্তব্যে মিহির ঘোষ বলেন, ২০১৬ সালের নভেম্বরে সাঁওতালদের একটি পল্লীতে হামলায় পুলিশের গুলিতে রমেশ-শ্যামল-মঙল নিহত হন। তাদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক “রমেশ-শ্যামল-মঙল” বেসরকারি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শীতবস্ত্র বিতরন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো । দরিদ্র অসহায় মানুষেরা দেশ ও সমাজের অংশ। তাই সমাজের বিত্তশালীসহ সকলের উচিত গরিব সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়াঁনো। ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ এই অনাথ শিশুদের শীত বস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে সেই নৈতিক দায়িত্ব পালন করে মানবিকতার কাজ করেছে ।

এ ধরণের মহৎ কাজে এগিয়ে আসার জন্য সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও আদীবাসীর পক্ষ থেকে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’কে ধন্যবাদ জানিয়ে আদীবাসী নেতা ও সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, পিছিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যাদের অনেকের হয়ত ঘর আছে কিন্ত শিশুদের গরম কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ্য নেই । সেই সব শিশুদের পাশে দাড়িয়ে ‘শাহ ফাউন্ডেশন’ নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছে।

দেবাশীষ দাস দেবু বলেন, আমরা যারা শহরে থাকি তারা হয়তো শীতের তীব্রতা বুঝতেই পারছি না। তবে গ্রামের মানুষ ও তাদের ছোট ছোট সন্তানরা তীব্র শীতে। শীত নিবারনের সামান্য বস্ত্রটুকুও হয়তো অনেকের নেই। শীতে জড়োসড়ো হয়ে পড়েছে তারা। তাদের পাশে যুক্তরাষ্ট্র নিউইর্য়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দাড়ানো জন্য অভিনন্দন।
প্রতীভা ববি বলেন, আসুন শাহ ফাউন্ডেশনের মত সবাই মিলে শীতার্ত মানুষের গায়ে জড়িয়ে দিই এক টুকরো গরম কাপড়। সবাই এগিয়ে আসুন, আপনার সামান্য ত্যাগের বিনিময়ে শীতের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে শত শত অসহায় শিশু ও দরিদ্র পরিবার।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সহযোগীতায় প্রথম দিন গাইবান্ধা শিশ সদন মহিলা বিভাগে ১শ’ জন অনাথ মেয়ে ও গত ১ ফ্রেব্রুয়ারী বিতরণের ২য় দিনে গাইবান্ধায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের শীতের পোষাক দেয়া হয়।
এই শীতেই শাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৪র্থ এবং শেষ পর্বে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই হাটে শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।


