চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে জেলে পাঠালো এমপি

সন্ধান২৪.কম : লাইসেন্স ছিল এমপি আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপের নামে করা । মেধা, শ্রম  ও কাজের সরঞ্জাম ঠিকাদারের। সেভাবেই চলছিল কিন্তু গোল বাধে লভ্যাংশ দাবি করলে। ব্যবসার মুনাফা হিসেবে শুধু ২০১৮ সালেই জোর করে হাতিয়ে নেওয়া হয় ১৯ কোটি টাকা।

এই লাভের অংশ ৬০ লাখ টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকির মুখে পড়েন ঠিকাদার। এমপি তাঁর কাছে পাল্টা ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দিলে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা চুরি ও ডাকাতির মামলার আসামি বানিয়ে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার নাজমুল হোসেন মৃধাকে জেলে পাঠিয়েছেন নরসিংদী-২ আসনের এমপি আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ।

জামিনে মুক্তি পেয়ে এমপি দিলীপের আক্রোশ থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ আরো কয়েক জায়গায় অভিযোগ করেন ঠিকাদার নাজমুল হোসেন। অভিযোগের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এই চাঁদাবাজির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ঠিকাদারকে থানায় ডেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় থানার পরিদর্শকসহ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা হলেন তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা, এসআই বোরহান উদ্দিন ও এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম।

ঠিকাদার নাজমুল হোসেনের স্ত্রী নাজনীন সুলতানা পপি বলেন, ‘শুধু চাঁদা না দেওয়ার কারণে আমার স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগে জেল খাটায় এমপি ও তাঁর লোকজন। মাসের পর মাস তিনি বাড়িতে আসতে পারেননি। এমপির অবিচারের জন্য বিচার চাই।’

ছয় মাস জেল খেটে বেরিয়ে এলেও হুমকির কারণে এলাকায় থাকতে পারেননি ঠিকাদার নাজমুল হোসেন মৃধা। করোনা পরিস্থিতিতে সম্প্রতি এলাকায় ফিরে গেছেন তিনি।  তিনি  বলেন, ‘এমপির ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে আমি কাজ করতাম। আমার পাওনা ৬০ লাখ টাকা এমপি আটকে রেখেছিলেন। সেই টাকা না দিয়ে উল্টো আমার কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দেওয়ায় মিথ্যা মামলায় আমাকে জেল খাটান এবং এলাকা ছাড়া করেন। আমি এমপির কাছে আমার পাওনা ৬০ লাখ টাকা ফেরত চাই। মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘এমপি আমাকে এলাকায় থাকতে দিচ্ছেন না। কাজকর্মও করতে দিচ্ছেন না। আমি আমার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চাই।’

জানা গেছে, নরসিংদী-২ আসনের এমপি আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপের নির্দেশে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার নাজমুল হোসেন মৃধাকে নরসিংদীর পলাশ থানায় ডেকে নিয়ে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এমপির ভাগ্নে মাহফুজুল হক টিপু ও পিএস মজনু সরকার। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তাকের উপস্থিতিতে ঠিকাদার নাজমুলের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুটি মামলায় আসামি করে তাঁকে জেলে পাঠায় পুলিশ। 

প্রধানমন্ত্রী, ডিআইজি ও নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এমপি আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপের নামে ঠিকাদার নাজমুল মৃধার কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এমপির ভাগ্নে মাহফুজুল হক টিপু ও পিএস মজনু সরকার। টাকা না দেওয়ায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। তার পরও  চাঁদার টাকা না দেওয়ায় জুলাই মাসের ১৫ তারিখে পলাশ থানার তৎকালীন এসআই বোরহান উদ্দিন ও এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম ঠিকাদার নাজমুলকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান থানায়। কিছুক্ষণ পর সেখানে হাজির হন এমপির ভাগ্নে টিপু ও পিএস মজনু সরকার। তাঁরা তাঁর কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চিৎকার করে বলতে থাকেন—এমপি সাহেব বসে আছেন। টাকা দিলে ছাড়া পাবি, নইলে ছয় মাস জেল খেটে আয়।

 

Exit mobile version