সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কে প্রিন্ট,ইলেট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া সাংবাদিদের সম্মানে ইফতার ও মাহফিলের আয়োজন করেন এক্সিট রিয়েলটি কন্টিনেন্টালের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জাকির এইচ চৌধুরী। ১৮ মার্চ নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এ আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে ঈদের শুভেচ্ছা হিসেবে অনেক সাংবাদিককে পাঞ্জাবী উপহার দেয়া হয়েছে ( যদিও এই উপহার বিতরণের সত্যতা সন্ধান২৪.কম‘র পক্ষ থেকে যাচাই করা হয় নাই )। সাংবাদিকদের ‘পাঞ্জাবী নেয়ার ’ ঘটনা কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
অনেকে উপহার দেয়ার বিষয়টিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আবার কমিউনিটির অনেক দুর্মুখরা সাংবাদিকদের ‘পাঞ্জাবী উপটৌকন’ নেয়াকে বাকা চোখে দেখছেন।
কেন অনেকে এই সমালোচনা করছেন ? তার কারণ-২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ তহবিল অপব্যবহার এবং আত্মসাতের ঘটনায় ৯ জন আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সেই অভিযুক্তদের একজন ছিলেন জাকির এইচ চৌধুরী।
এরপর জাকির এইচ চৌধুরীকে আদালত দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিলে তিনি সেই অর্থ পরিশোধ করেন। যার ফলে এটি এখন মিমাংসিত বিষয় বলে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানান।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কারণেই আমি কিন্তু লাইসেন্সধারী মর্টগেজ ব্রোকার হিসেবে ব্যবসা অব্যাহত রেখেছি। অথচ উক্ত মামলায় ৯ জন আসামির তথ্য থাকলেও শুধুমাত্র আমার ছবি দিয়েই সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কিছু সাংবাদিক ও মানুষ জাকির এইচ চৌধুরীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এইসব মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য প্রচার করছে’ বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
‘শুধুমাত্র আমার ছবি দিয়েই সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে’ সংবাদ সম্মেলনে জাকিরের এই বক্তব্যের পরই সাংবাদিকদের পাঞ্জাবী উপহার দেয়াকে অনেকেই বাকা চোখে দেখছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন , সাংবাদিকদের কলম বন্ধ করে দেয়ার জন্যই কি ঈদের দুইদিন আগে এই উপহার দেয়ার আয়োজন ? এর আগেও আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের নাকি খুশী করা হয়েছে ( যদিও এর সত্যতা যাচাই করা হয় নাই)। যাতে করে ভবিষ্যতে জাকিরের বিরুদ্ধে আর কোন ‘অপপ্রচার’ না করা হয়।
তবে অনেকেই পাঞ্জাবী বিতরণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এটি একটি মহৎ উদ্যোগ, এর ভিতর অন্য কোন উদ্দেশ্য খোঁজা ঠিক না।
কিন্ত সমালোকরা উপহার নেয়াকে সাংবাদিকতায় দক্ষতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে দুর্মুখরা বলেন, উপহার গণমাধ্যম কর্মীদের দৃঢ় নৈতিকতা শিথিল হয়ে যায়। কিছু পাওয়া থেকে বিরত না থাকলে,পেশাদার না হলে সংবাদ শিল্প রুগ্ন হয়ে পড়ে।
নিউইয়র্কের একজন বর্ষীয়ান সংবাদিক বলেন,উপহার নিউইয়র্কের ণমাধ্যকর্মীদের প্রভাবিত করেছে। সাংবাদিকদের নির্মোহ থাকতে হয়। উপহার-প্রলভনের উপরে থাকতে হয়। ফলে যারা উপহার পেয়েছেন,তারা ভবিষ্যতে জাকির হোসেন যদি কোন নেতিবাচক সংবাদের জন্ম দেয়, তা পরিবেশন করবে কি না তা যথেষ্ট সন্দেহ থেকে গেল।
একজন পাঠক মন্তব্য করেন, বিজ্ঞাপন বানিজ্যসহ নানা কারণে নিউইয়র্কের সাংবাদিকতা এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। জনমানুষ আস্থা হারিয়েছে অনেক আগেই। এখন বলতে গেলে সংবাদ মাধ্যম অস্তিত্ব সংকটে। তার উপর উপহার নেয়া সাংবাদিকদের আত্মপরিচয়টাই প্রশ্নের সন্মুখীন হয়।
একজন সংবাদ কর্মী জানান, আমাদের আত্মসমালোচনা দরকার। পর্যালোচনা করা দরকার কিছু উপহার নিয়ে আমরা কেন নিজেদেরকে এই বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছি! কিছু সুবিধার জন্য এই মহান পেশাটিকে কেন কলঙ্কিত করেছি ? এতে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধা হতে পারে। কিন্ত শেষ আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিউইয়র্কের সমাজ ও গণমাধ্যম।
১৮ মার্চ প্রিন্ট,ইলেট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া সাংবাদিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে নিউইয়র্কে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাকির এইচ চৌধুরী বলেন, ‘প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।’
