জামায়াত নেতার অত্যাচারে লামায় দিশেহারা কৃষক নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত

সন্ধান২৪.কমঃ  দিশেহারা কৃষক আবদুল জব্বার উপর লোহাগাড়ার পার্শ্ববর্তী লামা সরই ইউনিয়নে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির যুদ্ধাপরাধী নুরুল হক আবার বান্দরবানের লামায় ৭১ সালের রূপে তান্ডব চালাচ্ছে  ।

নুরুল হক চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ডজন মামলার পলাতক আসামি। বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে সাতকানিয়ায় জামায়ত সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন ডালিমও ২ ডজন মামলার আসামি। নিজ এলাকা হতে বিতাড়িত হয়ে লামা পার্বত্য এলাকায় গিয়ে গরিব কৃষকের ওপর তান্ডব চালাচ্ছে। তার অত্যাচারের শিকার কৃষক আবদুল জব্বার বিগত এক বছর ধরে নিজের বসতঘর, পুকুর, বাগান হারিয়ে বিচারের আশায় পথে পথে ঘুরছেন।

দাগি আসামি কর্র্তৃক তান্ডব চললেও লামা থানা পুলিশের কোন সহায়তা পায়নি এই পরিবারটি। বরং সত্তরোর্ধ্ব কৃষক আবদুল জব্বার, তার পঙ্গু সন্তান ও তার দুই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে ধূর্ত নুরুল হক আগেভাগেই লামা থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আর এই মামলায় প্রতিমাসে তাদের আদালাতে হাজিরা দিয়ে যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি আবার আবদুল জব্বারের বাগানের কোটি টাকার গাছ কাটার পাঁয়তারা করছে নুরুল হক। এ ব্যাপারে বৃদ্ধ কৃষক আবদুল জব্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ সকাল হতে অর্ধশত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কৃষক আবদুর জব্বারের গাছ বাগানে চড়াও হয় নরুল হক। নির্বিচারে গাছ কাটে। কৃষক আবদুল জব্বার লামা আলীকদম ও লামা সেনাক্যাম্পের সহায়তা চাইলে লামা সেনাক্যাম্প থেকে তাৎক্ষণিক একদল সেনাসদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতি টের পেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কেটে ফেলা গাছগুলো সরই পুলিশ ক্যাম্পের জিম্মায় রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের পুলাং পাড়ায় ১০ একর পাহাড়ি জমিতে কৃষক আবদুল জব্বারের বসবাস। সেখানে তাদের লাগানো কোটি টাকার গাছ বাগান রয়েছে। গাছগুলোর প্রতি নুরুল হকের লোভ পড়ে। সেগুলো কেটে নেয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ৭ ডিসেম্ভর ২০১৯ গভীর রাতে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র লুকিয়ে থাকে।

এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের দুটি টিনশেড পাকা বাড়ি লুট করে এবং বাড়ি দুটি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। পরদিন আবদুল জব্বার তার পরিবারসহ পাশ^বর্তী এক আতœীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরদিন আবদুল জব্বার লামা থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। এরমধ্যে তাদের বাড়ির পাশে মাছের প্রজেক্ট হতে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ লুট করে গাড়ি ভরে নিয়ে যায় নুরুল হক বাহিনী। পাশাপাশি তাদের কোটি টাকার গাছ কেটে নেয়ার আয়োজন করে নরুল হক। থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে আবদুল জব্বার লামা সেনাক্যাম্পে গিয়ে সহায়তা কামনা করেন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় সে যাত্রায় গাছগুলো সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায়।

 

Exit mobile version